রবিবার গভীর রাতে জয়পুরের সওয়াই মানসিং হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের আইসিইউ যেন নরকের থেকে কোনও অংশে কম ছিল না। দাবি করা হয়েছে, রাত ১১ টা ২০ মিনিটে নিউরো আইসিইউ থেকে ওঠা ধোঁয়া চোখের পলকে মৃত্যুর খবরে পরিণত হয়। যে মেশিনগুলোর উপর জীবন নির্ভর করছিল, সেগুলোই যেন বিষ উগরে দিচ্ছিল। চারদিকে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো আইসিইউ ধোঁয়ায় ভরে যায়। মৃত্যু হয়েছে সাতজনের।
ভরতপুরের বাসিন্দা শেরুর চোখের সামনে তাঁর মা জীবন এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘ধোঁয়া আসতে শুরু করে দিয়েছিল ২০ মিনিট আগেই। আমরা স্টাফদের জানিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ নজরই দেননি। ধীরে ধীরে প্লাস্টিকের টিউব গলতে শুরু করে এবং ওয়ার্ড বয় (ward boy) সেখান থেকে পালিয়ে যান। আমরা নিজেরাই আমাদের মাকে বাইরে বের করি।’
শেরু জানান যে দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টা পর তাঁর মাকে গ্রাউন্ড ফ্লোরে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁকে জানানো হয়নি যে মায়ের অবস্থা কেমন। দমকলকর্মী অবধেশ পান্ডে সেই রাতের ভয়ঙ্কর ছবি বর্ণনা করে বলেন, ‘অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে-সঙ্গেই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরো ওয়ার্ড ধোঁয়ায় ভরা ছিল। ভিতরে যাওয়া অসম্ভব ছিল। বিল্ডিংয়ের অন্যদিকের কাচ ভেঙে জল দেওয়া হতে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। ততক্ষণে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। আইসিইউতে সেইসময় ১১ জন রোগী ছিলেন।
ট্রমা সেন্টারের নোডাল অফিসার অনুরাগ ধাড়ক জানান, ‘আমাদের কাছে নিজেদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল। আমরা চেষ্টা করেছিলাম (আগুন নেভানোর)। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে স্টাফদের পক্ষে ভিতরে থাকা অসম্ভব হয়ে পরে। পাঁচজন রোগীকে কোনওমতে বাঁচানো গিয়েছে, বাকি ছয়জনের প্রাণ বাঁচানো যায়নি।’

এই দুর্ঘটনায় পিন্টু (সিকার), দিলীপ (আঁধি, জয়পুর), শ্রীনাথ (ভরতপুর), রুক্মিণী (ভরতপুর), কুশমা (ভরতপুর), সর্বেশ (আগ্রা), বাহাদুর (সাঙ্গানের) এবং দিগম্বর বর্মার মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার পরে ট্রমা সেন্টারের বাইরে রোগীর পরিজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ চিৎকার করছিলেন ‘ডাক্তার কোথায়? আমাদের বলুুন। আমাদের আপনজনরা বেঁচে আছেন কিনা?’ ঘটনাস্থলে আসেন মন্ত্রী জওহর সিং। তাঁকে ঘিরে ধরেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। পরিজনরা দাবি করেছেন, ‘যদি ঠিক সময় পদক্ষেপ করা হত, তাহলে হয়তো আমাদের লোকেরা বেঁচে যেত।’