Sonia Gandhi: পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে জোরকদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার। তারমধ্যেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এহেন আচরণকে তুলোধোনা করলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, এই নতুন বিলের আড়ালে আসলে গণতন্ত্রকে হত্যার চেষ্টা চলছে। আঘাত আসতে চলেছে ভারতীয় সংবিধানের উপর। তাঁর অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখন জাতিভিত্তিক জনগণনা আরও বিলম্বিত করা এবং তা বিপথে চালিত করা।
চলতি সপ্তাহের ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাস হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এখন এই বিলে সংশোধনী আনতে চাইছে কেন্দ্র। ২০২৩ সালে পাস হওয়া বিলে উল্লেখ ছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এই সংশোধনী নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সনিয়া গান্ধী।
সনিয়া গান্ধীর বার্তা
‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে কংগ্রেস নেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। সেটাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। অতীতে জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস হয়ে এসেছে। কিন্তু মোদী সরকার চাইছে, জনগণনার আগেই আসন পুনর্বিন্যাস হোক। জাতিগত গণনার কোনও প্রভাব যেন আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে আদমসুমারির রিপোর্ট প্রকাশ আরও পিছিয়ে দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।’ সনিয়া গান্ধীর আশঙ্কা, এইভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হলে বহু রাজ্যের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে। বিল পাস করাতে কেন্দ্রের ‘হুড়োহুড়ি’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী। সম্পাদকীয়তে তিনি লিখেছেন, ‘কংগ্রেস চেয়েছিল ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর হোক মহিলা সংরক্ষণ। সেটা কেন্দ্র হতে দেয়নি। যখন দুই রাজ্যে জোরকদমে ভোটের কার্যাবলি চলছে, সেই সময়ে কেন তাড়াহুড়ো করে বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র? কয়েকদিন পরে বাদল অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা গেল না কেন?’

সনিয়া গান্ধীর কথায়, অধিবেশন ডাকা হলেও সাংসদদের এখনও জানানো হয়নি, ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে এই অধিবেশনে। তাঁর আশঙ্কা, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কোনও প্রস্তাব পেশ হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে সেই প্রস্তাব পাস করিয়ে নেওয়ার ছক কষছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই বিষয়টি ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন তিনি। সনিয়া গান্ধীর কথায়, মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। কারণ এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই নীতিগত ভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটিই গুরুতর চিন্তার বিষয়। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ‘গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ এবং ‘সংবিধানের উপর আঘাতের সমান।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে দেশের কোনও রাজনৈতিক দল বা সমাজের মধ্যে মৌলিক বিরোধ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিলের দাবি উঠেছে এবং কংগ্রেস বরাবরই এর সমর্থন করেছে। বর্তমান প্রস্তাবে শর্ত রাখা হয়েছে-ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পরই সংরক্ষণ কার্যকর হবে, তা নিয়েই গুরুতর আপত্তি তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শর্তের ফলে বিল কার্যকর হতে বহু বছর লেগে যেতে পারে।