হরমুজ প্রণালী ‘খুলে দিয়েছে’ ইরান। তবে এখনও হরমুজের মুখে অবরোধ জারি রেখেছে আমেরিকা। এই আবহে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করা জাহাজগুলি ধন্দে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ অতিক্রমণ করতে গিয়েও তা না করে পারস্য উপসাগরে ফিরে গিয়েছে। এই আবহে জাহাজ মালিক ও তেল ব্যবসায়ীরা চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, হরমুজ অতিক্রম করতে এসেও ঘুরে যাওয়া জাহাজগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় জাহাজ। উল্লেখ্য, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন, লেবাননের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির বদলে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখবে ইরান। এদিকে ট্রাম্প বলছেন, যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে তাদের ‘লেনদেন’ সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখবে আমেরিকা। এদিকে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কোনও চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তাহলে ফের ইরানে বোমা ফেলবে আমেরিকা।
এরপর ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গলিবাফ আমেরিকাকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি হরমুজে অবরোধ জারি রাখে, তাহলে ইরান ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। তিনি বলেন, ‘এই সব মিথ্যা বলে আমেরিকা যুদ্ধ জিততে পারেনি, আলোচনার ক্ষেত্রেও তারা এই সব মিথ্যা বলে কিছু অর্জন করবে না। হরমুজ প্রণালী খোলা কি বন্ধ বা কোন নিয়মে এটা চলবে, তা নির্ধারণ করা হবে জমিতে।’ ইরানি স্পিকার দাবি করেন, ট্রাম্প ১ ঘণ্টায় ৭টা মিথ্যা বলেছেন। যদিও ট্রাম্পের কোন কোন দাবিকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তা তিনি স্পষ্ট করে দেননি।
এমনিতে ইরান হরমুজ অবরোধ বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম হু হু করে কমেছিল। তবে এই চলমান অস্থির পরিস্থিতিতে ফের তেলের দাম বাড়তে পারে বাজারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ১৭ এপ্রিল মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে একটি নতুন লাইসেন্স জারি করেছে। এর অধীনে, দেশগুলি এখন ১৬ মে পর্যন্ত সমুদ্রে বোঝাই রাশিয়ান তেল কিনতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতসহ অনেক আমদানিকারক দেশই লাভবান হবে। বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এই লাইসেন্স জারি করেছে। এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা নিষেধাজ্ঞায় ছাড়ের তোয়াক্কা অবশ্য করে না ভারত। সরকার বরাবর বলে এসেছে, ভারত নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী যেখান থেকে সস্তায় তেল পাবে, সেখান থেকেই কিনবে। ১১ এপ্রিল মার্কিন ‘ছাড়’ শেষ হয়ে গেলেও ভারত রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যাবে বলেই জানানো হয়েছিল রিপোর্টে।
