পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আর কয়েকদিনে। তার আগে সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর কেন্দ্রীয় সরকারের। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি করা হল। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ বেড়ে ৬০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। জানুয়ারি থেকে এই বর্ধিত হারে ডিএ কার্যকর হবে। কোভিডের পরে এই প্রথমবারের মতো ডিএ ঘোষণায় এত বিলম্ব হয়েছে। সাধারণত, সরকার হোলির আশেপাশে অর্থাৎ মার্চ মাসে বছরের প্রথম দফার ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করে দেয়। তবে গত ১০ বছরে এই প্রথম সরকার এপ্রিল মাসে ডিএ ঘোষণা করল।
এদিকে নির্বাচনের আবহে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের নিজেদের দিকে টানতে ডিএ এবং বেতন কমিশন নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। বর্তমানে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ফারাক অনেকটাই। এদিকে রাজ্যে এখন ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর রয়েছে। এদিকে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সরকার গঠনের পরে ৪৫ দিনের মধ্যে নাকি রাজ্যে তারা সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করবে। আর এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করে দিল মোদী সরকার।
এদিকে রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত সব কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র কিস্তি মেটাতে পারেনি। গত ১৫ এপ্রিল এক হলফনামা পেশ করে রাজ্য সরকার বলে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলা। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত যে মামলাটি চলছে, সেটা পঞ্চম বেতন কমিশন সংক্রান্ত। ২০১৬ সাল থেকে সেই মামলা চলছে। এই মামলাটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল, কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। প্রথমে স্যাটে জয় পেয়েছিল রাজ্য সরকার। তারপর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে জয় পেয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। এর আগে ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। কারণ, ২০২৫ সালেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ সরকার মানেনি। পরে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতার সরকর। তবে সেখানেও সরকারের হার হয় শেষ পর্যন্ত। এই আবহে বকেয়া ডিএ মেটাতে শুরু করে রাজ্য সরকার। আর ওদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ বেড়ে হল ৬০ শতাংশ।
