Taratala Disaster Ex-Gratia। তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ

Spread the love

তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দুর্ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

বিধানসভায় বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। আহতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার আপনাদের পাশে আছে।’ দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার দুপুরে গুদাম ধসের প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়ে যায়। প্রথমে কলকাতা পুলিশ, দমকলকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বুধবার রাতভর উদ্ধার অভিযান চলেছে এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজে যাতে কোনও বাধা না তৈরি হয়, সেই কারণে আমি প্রথমে ঘটনাস্থলে যাইনি। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি।’ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তবে এখনও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে উদ্ধারকাজ বন্ধ করা হয়নি।

এদিকে ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়, হোমিসাইড বিভাগের অফিসার-ইন-চার্জ দেবাশিস দত্ত, ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ এবং তারাতলা থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য ও কুশল মণ্ডল। পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন গুদাম নির্মাণের সুপারভাইজার, ঠিকাদার, লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক, জমির লিজগ্রহীতা এবং নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদন সংক্রান্ত এক মধ্যস্থতাকারী। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এই ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি বা ভূমিকা ছিল কি না। প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারাতলা বিপর্যয় ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিপূরণের ঘোষণা এবং দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়ে প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এখন সকলের নজর উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *