বেশ কিছু গুঞ্জন রয়েছে যে, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কের যে প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য আহ্বান রয়েছে। এদিকে, দিল্লির ইভেন্টে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর সম্প্রচারিত হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। এরপর থেকেই ভারতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফর করবেন কি না, তা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা। সদ্য দিল্লির তরফে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের কিছু জানানোর মতো নেই। ঢাকাও মুখে কুলুপ এঁটেছে। এরই মাঝে সদ্য ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের এক নোটিস ঘিরে জল্পনা আরও উস্কে গিয়েছে।
শুক্রবার দুপুর নাগাদ, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়, শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানোর জন্য ওই সময় পূর্ণ রিহার্সাল হবে। ফলত, জল্পনা শুরু হয়ে যায় যে তাহলে ভারত সফরে আসছেন তারেক রহমান। এদিকে, জানা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সেই বার্তা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খানিক পরই,সেই বিজ্ঞপ্তি সরিয়ে নেওয়া হয়।অনুষ্ঠানটি স্থগিত করার কথা ঘোষণার পর, বিকেলে রাষ্ট্রপতি ভবন একটি নতুন বিবৃতি জারি করে জানায় যে, শুক্রবার ‘এই শনিবারে কোনও গার্ড পরিবর্তন অনুষ্ঠান (চেঞ্জ অফ গার্ড সেরিমনি) হবে না’,এই মর্মে যে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলত, জল্পনা অন্যদিকে মোড় নেয়! প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি ভারতের সফরে আসছেন না বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী! ইতিমধ্যেই ভারতের তরফে আমন্ত্রণ পেয়েছেন তারেক রহমান। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার আগেই দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আসবেন তারেক রহমান। বেশ কিছু রিপোর্ট দাবি করছে, ঢাকার তরফে দিল্লিকে কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে। এমন এক কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা। প্রসঙ্গত, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে চিনকে বেছে নিয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর তিনি ভারতে আসছেন কি না, তার ওপর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বহু দিক নির্ভর করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিবিদ বিদ্যাভূষণ মনে করেন, তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন দরজা খুলে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক সমস্যাগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশও সমানভাবে আগ্রহী। তারা চায় ভারত এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক। মায়ানমার কর্তৃপক্ষের সাথে মধ্যস্থতাকারী বা আলোচনার মাধ্যম হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ছাড়া ভারতের অন্য কোনো উপায় নেই, কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শোনে। আর আমার ধারণা, বাংলাদেশ চায় ভারত যেন সেই সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তার প্রভাব ও কূটনৈতিক অবস্থানকে ব্যবহার করে।’ পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘তিনি যদি না আসেন, তবে সেই সুযোগের সময়টুকু হাতছাড়া হয়ে যাবে। এই সুযোগটি দীর্ঘ সময় ধরে আর পাওয়া যাবে না,আর আমরা বা তারা কেউই চাই না যে এই সুযোগটি হাতছাড়া হোক। তাই আমি বেশ আশাবাদী।’
