তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের দুই পুত্রকে এসআইআর শুনানিতে তলব করা হল নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। শুধু তাই নয়, সাংসদের মা এবং বোনকেও ডাকা হয়েছে শুনানিতে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বারাসতের ৪ বারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দুই ছেলে এবং মা ও বোনকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সাংসদের দুই ছেলেই সরকারি চাকরিজীবী। এদিকে কাকলির স্বামী সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। এই আবহে ছেলেদের শুনানিতে তলব করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাকলি।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘খসড়া তালিকা দেখতে গিয়ে দেখা যায়, আমার দুই ছেলের নাম নেই। তাদের হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠিয়েছে। তাদের বাবা একজন প্রাক্তন মন্ত্রী। আমি চারবারের সাংসদ। দুই পুত্র সরকারি চাকুরে। হিয়ারিংয়ে যাবে। কিন্তু, কীভাবে এসআইআর হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ, যাদের এত যোগাযোগ নেই, হিয়ারিংয়ে কী চাইছে জানে না, তাদের তো হেনস্থা করা হচ্ছে। জবরদস্তি নাম বাদ দিয়ে বিপদে ফেলার চেষ্টা। আমার মা ও বোন অন্য বুথের ভোটার। তাদেরও নাম নেই।’
এদিকে এসআইআর শুনানি শুরুর আগেই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করে দেওয়া হয়, সিএএ সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে এসআইআরে। অবশ্য সেই ক্ষেত্রে নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে আবেদনকারীদের। এরপর নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভোটার সিএএ সার্টিফিকেট জমা দিতে পারবেন। এই নিয়ে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, ইতিমধ্যেই ৭০ হাজার মানুষ সিএএ-তে আবেদন করেছেন, তাঁদের সার্টিফিকেটও ইস্যু হয়েছে। জগন্নাথের দাবি, এই সিএএ সার্টিফিকেট প্রাপকদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে। এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, মতুয়াদের ৯০ শতাংশই শুনানির জন্য ডাক পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর শুনানি নিয়ে মানুষের মনে সংশয় রয়েছে।

অনেকেরই আশঙ্কা, এসআইআর আবহে পশ্চিমবঙ্গের বহু মতুয়া ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে ভোটার তালিকা থেকে। বহু মতুয়া ভোটারের নামেরই ম্যাপিং সম্ভব হয়নি বলে দাবি রিপোর্টে। এদিকে অনেক মতুয়াই এখনও সিএএ-তে নাগরিকত্ব পাননি। এই পরিস্থিতিতে আবার মোদীর সরকারের মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘যদি ১ লক্ষ মতুয়া ভোট না দিতে পারে, তা মেনে নিতে হবে’। কিন্তু কেন? শান্তনুর বক্তব্য, ৫০ লাখ অবৈধ ভোটার আটকাতে এই ‘দাম’ মেটাতে হবে। যদিও সিএএ নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তাতে অনেকেরই সংশয় দূর হবে।