TMC Parliamentary Party Split Chance। এবার ভাঙবে অভিষেকের ঘর?

Spread the love

রাজ্য বিধানসভার পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্টে দাবি, একদল সাংসদ দলত্যাগের প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, সম্ভাব্য দলত্যাগীদের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১২ জন সাংসদের দল ছাড়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেখানেই শেষ নয়। আরও অন্তত ৬ জন সাংসদ একই পথে হাঁটার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলেও দাবি করা হয় সেই প্রতিবেদনে। সূত্রের খবর, এই অতিরিক্ত সাংসদদের মধ্যে কয়েকজন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে এই তৎপরতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী সপ্তাহেই তৃণমূলের সংসদীয় শিবিরে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন লোটাস’ শব্দবন্ধও উঠে আসছে বিভিন্ন মহলে। দলবদল সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়াতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সেই হিসাব অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একসঙ্গে অবস্থান বদল করলে তা দলবিরোধী আইনের আওতায় না-ও পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। এই সংখ্যা ১৮ বা ১৯ জন হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

তবে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে সম্ভাব্য দলত্যাগীদের নাম এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী। শুধু লোকসভা নয়, ভবিষ্যতে রাজ্যসভাতেও একই ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যেতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে এই জল্পনা কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। উল্লেখ্য, তৃণমূলের সংসদীয় দলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। এদিকে লোকসভায় দলের নেতা বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর, প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সকল সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তিনি দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, আই-প্যাকের কাজের ধরন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলে দুর্নীতি, একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আর জি করের মতো ঘটনায় সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পরে শুভেন্দুর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকেও অংশ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এদিকে লোকসভার অন্দরে দলের অপর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি চরম দুর্ব্যবহার ও নারীবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ এনে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এই আবহে বিদ্রোহী দল যদি আলাদা হয়, তাহলে তাতে যে কাকলি থাকবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখনও বাকি আর কারও বিষয়ে সেভাবে নিশ্চিত কিছু জানা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *