Surendranath College Kan Kata Debu: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ‘কানকাটা দেবু’ নামটা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে সুরেন্দ্রনাথে একচ্ছত্র দাপট ছিল ‘কানকাটা দেবু’ দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর সেই বাড়বাড়ন্তের নেপথ্যে ছিলেন উত্তর কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ তো দাবি করেছেন, ‘কানকাটা দেবু’ নাকি সুদীপ এবং নয়নার ‘আশ্রিত ছেলে’ ছিলেন। তাঁদের আশীর্বাদেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ‘কানকাটা দেবু’-র এত বাড়বাড়ন্ত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সজল।
‘কানকাটা দেবু’-র নামের পিছনে বড় ইতিহাস
কিন্তু সেই ‘কানকাটা দেবু’ নামটা কীভাবে হল? যে নামে একবার ডাকলেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের মোটামুটি সকলেই চিনে যেতেন বা এখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চিনে যাচ্ছেন? সংবাদমাধ্যম টিভি নাইন বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তোলাবাজি ও ‘কানকাটা দেবু’-র মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাম আমল থেকেই তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে ‘কানকাটা দেবু’-র বিরুদ্ধে। তারইমধ্যে তোলাবাজি নিয়ে সংঘাতের জেরে কেটে গিয়েছিল দেবাশিসের কান। আর তারপর থেকেই দেবু বা দেবাশিস পরিচিত হয়ে যান ‘কানকাটা দেবু’ নামে।
‘কানকাটা দেবু’-র ছেলেও কম যান না, উঠেছে অভিযোগ
তবে শুধু ‘কানকাটা দেবু’ নন, তাঁর ছেলে শিবাশিসের দাপট কম ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবা ‘কানকাটা দেবুর’ তোলাবাজির টাকায় ব্রিটেনে পড়তে গিয়েছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজে পড়িয়েছেন। এমনকী কলকাতার এক সাংসদের আশীর্বাদে মধ্য কলকাতার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতিও হয়েছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের গভর্নিং মেম্বারের পাশাপাশি রাজ্য যুব উৎসবের আহ্বায়ক হয়েছিলেন বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিস্ফোরক অভিযোগ সজলের
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ‘স্পেশাল রুম’ উদঘাটন হওয়ার পরে এবং উঁইপোকা ধরা নোট উদ্ধারের পরে সজল বলেছেন, ‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্রিত ছেলের নাম হচ্ছে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মানে কানকাটা দেবু। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্রিত নাতির নাম হচ্ছে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো সাম্রাজ্য শুধু সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় নয়, প্রত্যক্ষ মদতে চলেছে। এই টাকার ভাগ সুদীপ-নয়নার বাড়ি হয়ে কালীঘাটে পৌঁছেছে।’
