বিশ্ব রাজনীতিতে কম্পন ধরিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের হাতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে একটি স্থায়ী চুক্তিতে আসার জন্য। যদি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও সমঝোতা না হয়, তবে ইরানকে ‘নরকের ভয়াবহতা’ সহ্য করতে হবে বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ও অস্থিরতার মেঘ ঘনীভূত করছে। ট্রাম্পের কথায়, মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে আসছে – আর ৪৮ ঘণ্টা পরেই তাদের উপর সর্বনাশ নেমে আসবে। ঈশ্বরের মহিমা!’
আমেরিকার দাবি, পালটা দাবি ইরানের
আসলে আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের মধ্যেই গত ২৬ মার্চ ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তেহরানের অনুরোধে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ১০ দিনের সময়সীমা বাড়াচ্ছেন। ইরান নাকি সাতদিন চেয়েছিল। যে সময় আমেরিকা যাতে ইরানের কোনও শক্তি সংক্রান্ত পরিকাঠামোয় হামলা না চালায়, সেই আর্জি জানায় তেহরান। যদিও ওয়াশিংটন ১০ দিনই দিচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও যুদ্ধে ইতি টানার যে প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা, তা একতরফা এবং অনায্য ছিল বলে ইরানের তরফে দাবি করা হয়।
আমেরিকা যুদ্ধবিমান হারিয়েছে ইরানের কাছে
আর সেই ১০ দিনের ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগে ইরানকে নতুন করে হুমকি দিলেন ট্রাম্প। যাঁর দেশ আগেরদিনই এক যুদ্ধবিমান হারিয়েছে ইরানের কাছে। একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে, এমন রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর প্রথমবার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সংবাদমাধযম এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প স্পষ্ট বলেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেমে থাকবে না।

‘আমরা যুদ্ধে আছি’, দাবি করেন ট্রাম্প
তিনি বলেন, ‘না, একেবারেই না। এটা যুদ্ধ, আমরা যুদ্ধে আছি।’ তাঁর দাবি, সামরিক অভিযান এবং কূটনীতি সমান্তরালভাবে এগোবে। তবে ভূপাতিত বিমানটির নিখোঁজ পাইলটের উদ্ধারকাজ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই বিস্তারিত এখন প্রকাশ করা ঠিক নয়।