UPSC Success Story: ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ভারতের অন্যতম কঠিন এবং ঐতিহ্যবাহী পরীক্ষা। প্রতি বছর দেশজুড়ে লাখ-লাখ তরুণ-তরুণী আইএএস এবং আইপিএস হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিনরাত এক করে দেন। কিন্তু সাফল্যের মুকুট কেবল তাঁদেরই মাথায় ওঠে, যাঁদের একাগ্রতা অটুট থাকে। এই পরীক্ষা পাশের সবচেয়ে অব্যর্থ মন্ত্র হল কেবল দৃঢ় সংকল্প এবং একটানা কঠোর পরিশ্রম। যদি আপনার সাহস অটুট থাকে, তবে পথের প্রতিটি বাধা ছোট মনে হয়। ঠিক এই কথাই সত্যি প্রমাণ করেছেন রাজস্থানের আলওয়ারের লঘিমা তিওয়ারি। লঘিমা কোনও কোচিং ছাড়াই নিজের প্রথম চেষ্টাতেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ১৯ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা আজ লাখ-লাখ চাকরিপ্রার্থীরা কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
কোনও কোচিং ছাড়াই UPSC সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি
লঘিমার দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রনিক্স এবং কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২১ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করার পর কোনও কর্পোরেট চাকরিতে যোগ দেননি। বরং নিজের সবকিছু উজাড় করে দেন ইউপিএসসি প্রস্তুতিতে।
কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন লঘিমা?
সাধারণত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে এই ধারণা থাকে যে এত বড় পরীক্ষা কোনও নামী-দামী কোচিং সেন্টার ছাড়াই পাশ করা সম্ভব নয়। কিন্তু লঘিমা তাঁর দুর্দান্ত কৌশল এবং দৃঢ় সংকল্প দিয়ে এই মিথকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে সঠিক দিকে পরিশ্রম করলে, বিপুল পরিমাণ ফি না দিয়েও ইউপিএসসির মতো কঠিন পরীক্ষায় সাফল্যের ধ্বজা ওড়ানো যেতে পারে। প্রায় এক বছর তিনি নিজেকে পৃথিবীর চাকচিক্য থেকে দূরে রেখেছিলেন এবং সম্পূর্ণ শৃঙ্খলার সঙ্গে পড়াশোনায় মগ্ন ছিলেন।

লঘিমা জানিয়েছেন যে প্রস্তুতির সময় তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল স্বচ্ছ ধারণা এবং কৌশল। প্রস্তুতির শুরুর দিনগুলোতে নিজের কৌশল ঠিক করতে ইউটিউব দেখতেন। অনেক ইউপিএসসি টপারদের সাক্ষাৎকার দেখেছেন। তা থেকে বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রস্তুতির সঠিক পথ কী হওয়া উচিত। টপারদের অভিজ্ঞতা থেকে জেনারেল স্টাডিজ, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং স্ট্যাটিক সাবজেক্টগুলি কীভাবে কভার করতে হয়, তার সম্পূর্ণ নীলনকশা শিখেছিলেন। ক্রমাগত অনুশীলন এবং নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করতেন।
UPSC ক্র্যাক করতে কী কী টিপস দিলেন?
সেই রেশ ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লঘিমা। তিনি বিশ্বাস করেন যে কেউ যদি দিনে একটু কম সময় পড়াশোনা করেন, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু প্রতিদিন পড়াশোনা করতে হবে। ক্রমাগত পড়াশোনা করলে এবং ভুল সংশোধন করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির উপর দখল আরও বাড়ে। আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। সেইসঙ্গে তিনি জানান, প্রিলিমস পরীক্ষার পর ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। প্রার্থীদের প্রাথমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই মেইনসের প্রস্তুতি শুরু করা উচিত, কারণ মেইনসের সিলেবাসে বিষয়গুলি খুব গভীরভাবে পড়তে এবং লিখতে হবে।