US Expenditure in Iran War। ইরান যুদ্ধে প্রথম ৬ দিনে ১১৩০ কোটি ডলার খরচ আমেরিকার

Spread the love

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ করার জন্য আমেরিকার প্রয়োজন পড়ে কংগ্রেসের অনুমতি। তবে ট্রাম্প সেই সবের তোয়াক্কা করেন না। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নামে যুদ্ধ চালাচ্ছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই ইরানের ওপর কয়েক মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে আমেরিকা। এই আবহে কংগ্রেসের এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা জানালেন, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে অন্তত ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার।

এর মধ্যে হামলার প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করে আমেরিকা। এদিকে রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধের জন্য আরও ৫ হাজার কোটি ডলার খরচের অনুমোদন চাওয়া হতে পারে কংগ্রেসের কাছে। অবশ্য আদতে এই যুদ্ধে আমেরিকার মোট খরচের পরিমাণ এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবার তিনটি শর্ত দিল ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে; সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে- তাহলেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ করবে।

এর আগে ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদিওন সার বলেন, তাঁর দেশ ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সংঘাত অবসানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করবে ইজরায়েল। তবে বর্তমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। উল্লেক্ষ্য, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত আজ ১৩তম দিনে প্রবেশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানে শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমেরিকা ইতিমধ্যেই অনেক দিক দিয়ে এই যুদ্ধ জিতেছে। তবে এখনও সবটা জেতা হয়নি।’ তবে ট্রাম্পের কথায়, ‘এই যুদ্ধ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এবং তা প্রায় শেষের পথে।’ এদিকে ট্রাম্পের দাবির জবাবে ইরানের পালটা বক্তব্য ছিল, যুদ্ধ কবে শেষ হবে, এবার সেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। এই নিয়ে এক বিবৃতি দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, ‘এই অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যত এখন আমাদের সামরিক বাহিনীর হাতে। মার্কিন বাহিনী এবার এই যুদ্ধ শেষ করবে না। আমরা সিদ্ধান্ত নেব যুদ্ধ কখন শেষ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ জুড়ে ইরান হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন থেকে শুরু করে দুবাই, সৌদি, কাতার, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল। এই আবহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি হামলায় আমেরিকার একাধিক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন। এদিকে এই যুদ্ধে আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের ‘চোখ-কান’ হারিয়েছে আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে নিজেদের দূতাবাস খালি করিয়েছে আমেরিকা। এরই মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পরপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। দুবাইয়ের বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিখ্যাত হোটেলে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল এবং ড্রোন। দুবাইয়ের বন্দরেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে একাধিক জাহাজে ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী কার্যত স্তব্ধ। বিভিন্ন দেশের তেলের ডিপোতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *