এখনও ভারতের বিরুদ্ধে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির শক্ত ঘাঁটি পাকিস্তান। এমনই বলা হল মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিবেদনে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি বড় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যারা জম্মু ও কাশ্মীর ও ভারতের দিকে নজর রেখেছে। এবং পাকিস্তানে তারা নিরাপদেই আছে। গত ২৫ মার্চ এই প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়েছিল। তাতে পাকিস্তানের ১৫টি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের আখড়া এবং সন্ত্রাসবাদের শিকার, উভয় বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ‘ভারত ও কাশ্মীর-কেন্দ্রিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ ক্রমাগত হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ, হরকত-উল-জিহাদ ইসলামি, হরকত-উল-মুজাহিদিন, হিজবুল মুজাহিদিন। এর মধ্যে জইশ-ই-মহম্মদ নাকি ৫০০ কাশ্মীরি জঙ্গির হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। এদিকে হিজবুল মুজাহিদিনের ১৫০০ জঙ্গি ক্যাডার বাহিনী আছে।
পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেশনাল রিপোর্টে – বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ছড়ানো সংগঠন, আফগান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, কাশ্মীর ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী, ঘরোয়া জঙ্গি সংগঠন এবং শিয়া বিরোধী জঙ্গি। রিপোর্টে উল্লেখিত ১৫টি জঙ্গি সংগঠনের ১২টি মার্কিন আইনের অধীনে নিষিদ্ধ হলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের জেরে পাকিস্তানে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০০১ জন। গত ১১ বছরে সন্ত্রাসবাদের জেরে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু। এদিকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে আল-কায়দা এখনও পাকিস্তানে সক্রিয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই রিপোর্টে। এদিকে ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক শাখা – আইএসকেপি সক্রিয় আছে পাকিস্তানে।এদিকে কয়েকদিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড একটি প্রতিবেদন পেশ করে বলেছিলেন, পাকিস্তানকে আমেরিকার জন্য হুমকি হিসাবে দেখেন তিনি। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র মার্কিন মুলুকের জন্য হুমকির। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের আশঙ্কা, যদি কোনওভাবে এই পারমাণবিক অস্ত্র চরমপন্থী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়, তাহলে তা শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা কমিউনিটির বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার উল্লেখও ছিল।
