ইরানের সঙ্গে আমেরিকার বৈঠকে বসতে চলেছে ওমানে। তার আগে ফের একবার পরমাণু ইস্যুতে ইরানকে হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বললেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান চান, কিন্তু সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পের বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে সতর্কবার্তা দিচ্ছে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন বলেও বার্তা দিলেন ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, কোনও ‘পাগল’ সরকারকে পরমাণু অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া যাবে না। কূটনীতিকে দুর্বলতা বলে ভুল না করার জন্য তেহরানকে বলেছেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে পাগল ও নিকৃষ্টতম সরকারের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যাবে না। এটা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে পারেন। তিনি এসব পদক্ষেপ নিতে চান এবং আমি আশা করি ইরান আলোচনায় বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নেবে, কারণ প্রেসিডেন্ট এটাই চান। আমরা সামরিক বাহিনী ছাড়াই একটি সমাধানে পৌঁছানোর আশা করছি। কিন্তু যদি আমাদের শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, প্রেসিডেন্টের তা করার অধিকার রয়েছে।’
উল্লেখ্য, আজ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ফের একবার আলোচনার টেবিলে বসার কথা ইরান এবং আমেরিকার। ওমানের তরফ থেকে সেই কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা যেন ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি পরমার্শমূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভারতীয়দের ইরান ছাড়তে বলেছে। এর আগে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় গত জানুয়ারিতেও ইরানে থাকা ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা রয়েছে বর্তমানে। আমেরিকার দু’টি বিমানবাহী রণতরী, শতাধিক যুদ্ধবিমান, এক ডজন যুদ্ধজাহাজ আছে ইরানের কাছাকাছি। ওপেন সোর্স ট্র্যাকিং দেখা গিয়েছে যে, ১৫০টিরও বেশি কার্গো ফ্লাইট অস্ত্র এবং গোলাবারুদ বহন করে নিয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। বেশ কয়েকটি এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে। এরই সঙ্গে বেশ কয়েকটি জ্বালানী ভরানোর ট্যাঙ্কার বিমানও দেখা গেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা সৈনিকদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেখান থেকে। মার্কিন হামলা হলে ইরানের পালটা জবাবের আশঙ্কাতেই এই পদক্ষেপ আমেরিকা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মাঝে মার্কিন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন ইরানকে। পালটা হুঁশিয়ারি শোনা যাচ্ছে ইরানের তরফ থেকেও। সঙ্গে আলোচনা সফল করার বার্তাও দিচ্ছে তেহরান।