পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত তিন দফায় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়া ভোটাররা যাতে সময় মতো নির্বাচনের আগেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারেন, তার জন্যেই এবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশে তোড়জোড় নির্বাচন কমিশনের। এরই সঙ্গে এবার আজ থেকে ট্রাইব্যুনালে অনলাইন আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন জানানোর জন্য, https://voters.eci.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অফলাইনে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে ফর্ম ফিলাম করে আবেদন জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
অনলাইনে ফর্ম ফিলআপের জন্য, আবেদনপত্রে চারটি শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর পিন কোড-সহ পুরো ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। সেখানে ২৫০ শব্দের বেশি লেখা যাবে না। আবেদনকারীকে আরও জানাতে হবে কোন জায়গার ভোটার ছিলেন। এরপর কেন আবেদন করছেন, তা ১০০০ শব্দের মধ্যে জানাতে হবে। এরপর আবেদনকারীর কী দাবি, তা ৫০০ শব্দের মধ্যে লিখতে হবে।
এদিকে ভোটর তালিকায় নাম আছে কি না, তা দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন – https://voters.eci.gov.in/download-eroll?stateCode=S25। এছাড়া জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে তালিকা দেখতে পারেন। এছাড়া এসিডও ও এডিএম-এর অফিসে গিয়ে তালিকা দেখতে পারবেন। প্রত্যেক বুথে বুথেও তালিকা টাঙিয়ে দেওয়ার কথা। উল্লেখিত লিঙ্কে গেলে রাজ্যের নাম, ভোটার তালিকা সংশোধনের বছর, রোলের ধরন (অ্যাডজুডিকেশন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নম্বর), জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র, ভাষা বেছে নিয়ে ক্যাপচা দেবেন। এরপর নীচে তালিকা আসবে। সেখান থেকে নিজের বুথের পাশে ক্লিক করে বেছে নিতে হবে এবং তা ডাউনলোড বোতামে টিপতে হবে। তারপরই সংশ্লিষ্ট পিডিএফ ডাউনলোড হয়ে যাবে। আর যদি অ্যাডজুডিকেশন সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় আপনার নাম না থাকে, তাহলে রোলের ধরন থেকে অ্যাডজুডিকেশন ডিলিটেড লিস্টে গিয়ে নাম খুঁজতে পারেন। নাম বাদ দেওয়া হলে আপিল করা যাবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক-বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালে। এই ধরনের নিষ্পত্তির জন্যে মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলায় এসআইআরের ‘চূড়ান্ত তালিকায়’ ৬৩ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে গোটা রাজ্যে বাদ পড়ে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। এই সব ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্মই জমা পড়েনি। তাই খসড়া তালিকা থেকেই বাদ পড়েছিল তাদের নাম। এর মধ্য়ে মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২, নিখোঁজ ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন, স্থানান্তরিত রয়েছেন ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন, ভুয়ো ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৮ জন এবং অন্যান্য ৫৭ হাজার জন। তারপর ‘চূড়ান্ত তালিকায়’ আরও প্রায় ৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম ছিল বিচারাধীন। এই আবহে বিচারাধীন ভোটারদের যোগ্যতা বিচার করতে বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সেই মতো বিচারাধীন থাকা ভোটারদের নথি যাচাই বাছাই করে তা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আর একেক করে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্য জুড়ে লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ছে।
