তালসারিতে মেগার শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই মেগার প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অব্যবস্থা ও গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। তবে এই সবের মাঝেই মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভ এসেছিলেন জীতু কমল জানান তাঁরও প্রোডাকশনের গাফিলতিতে বড়সড় বিপদ হতে পারত, মৃত্যুও ঘটতে পারত!
এফআইআর দায়ের করবে বলে জানায়, তারপরই জীতুর একটি পোস্ট নজর কাড়ে। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বুম্বা দা বললেন, ‘যে চলে গিয়েছে তাকে তো আর ফেরানো যাবে না’, এই কথাটা যতটা সত্যি, আবার যে বা যাঁরা চলে যেতে পারতেন তাঁর বা তাঁদের জন্য আপনাদের যে উদাসীনতা ,অবহেলা গুরুত্বহীনতা, অনীহা, সেটাও ততটাই সত্যি। সেক্রেটারি উপস্থিত ছিল সেই শ্যুটিংয়ে যেখানে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি অপরিণত বা অপেশাদার প্রোডাকশনের কার্যকলাপে। সেক্রেটারি চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’ এই পোস্টের পরই শনিবার উঠে আসে এক মনখারাপ করে দেওয়া চিত্র।
শনিবার টলিউড অনলাইনের পক্ষ থেকে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনা হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় একটি কাঁঠাল গাছের তলায় সাদা শার্ট ও কালো টাউজার পরে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন অভিনেতা। তাঁর পাশে রাখা দুটি সাদা কালো ছবি। একটি তাঁর, অন্যটি প্রয়াত রাহুলের। দুটি ছবির গলায় রজনীগন্ধার মালা। সামনে রাখা একগুচ্ছ স্ক্রিপ্ট ও একটি মোমবাতি। এই ভাবেই তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন।অনেকে জীতুকে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি আর্টিস্ট ফোরামকেও ধুয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। একজন নেটিজেন লেখেন, ‘আপনি নিজের ছবির থেকে মালা সরান। আপনি সুস্থ থাকুন। লড়াই টা তো করতে হবে।’ আর একজন লেখেন, ‘ছিঃ ছিঃ আপনাদের বিবেক নেই ? মানুষ টা কবে থেকে একা লড়াই করছে, আপনারা এখনও তাঁর সমস্যার কথা শুনতে চাইছেন না । এ কেমন ফোরাম আপনাদের? কতটা অসম্মানিত হয়েছেন উনি, তাই না এত অভিমান করেছেন। দয়া করে ওঁর পাশে দাঁড়ান। এভাবে প্রতিভাবান মানুষ গুলোকে হারতে দেবেন না প্লিজ ‘

আর একজন লেখেন, ‘এসব না করে মুখ খুলুন। যে বা যারা আপনাকে হেনস্থা করেছে নাম প্রকাশ করে সাংবাদিক ডেকে খবর করে দিন।’ আর একজন লেখেন, ‘জীতু তোমাদের আর্টিস্ট ফোরাম হল ভুয়ো। মরে গেলে কদর করে যারা বেঁচে আছে তাদের কদর করে না।’
প্রসঙ্গত, মাস কয়েক আগে ‘এরাও মানুষ’ ছবির শ্যুটিংয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল জীতু কমলকে। পরবর্তীতে সেই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তীব্র ঝামেলায় জড়ান নায়ক। জীতুর কথায়, ‘সেক্রেটারি সেখানেও উপস্থিত ছিলেন যেখানে হসপিটাল থেকে ফিরে আবারও একই পরিবেশে (আরও দ্বিগুণ খারাপ পরিবেশে যা আমার শ্বাসনালী কে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে) কাজ করানো হয়।’