ভারতের নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই স্বাধীনভাবে কাজ করা উচিত। রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এমনই মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্না। তিনি নির্বাচন কমিশন ছাড়াও অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে স্বায়ত্ত্বশাসন দেওয়ার জন্য এদিন সওয়াল করেন।শনিবার পাটনার চাণক্য ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটিতে এক অনুষ্ঠানে বিচারপতি বিভি নাগারত্না বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত হবে না। তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা অটুট রাখতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেখানে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না, সেখানে এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির কাজ করে। বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি বিভি নাগারত্না বলেছেন যে নির্বাচন কমিশন, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) এবং অর্থ কমিশন ‘বিচ্ছিন্ন, বিশেষায়িত এবং তাদের এমন সব কাজ দেওয়া হয়েছে যেখানে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অপর্যাপ্ত হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত হবে না।’
দেশের গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা শুধু একটি গতানুগতিক কাজ নয়, বরং এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। তাঁর কথায়, ‘যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আমাদের সাংবিধানিক গণতন্ত্রে যে সরকারের পরিবর্তন সাবলীলভাবে হয়, তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ মানেই কার্যত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শর্তগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ।’ বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন এবং কোনওভাবেই রাজ্যগুলোকে কেন্দ্রের ‘অধীনস্থ’ মনে করা উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ক্ষমতার উৎস যত বৈধই হোক না কেন, তা সবসময় জবাবদিহিতার আওতায় থাকা উচিত এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ অবক্ষয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।
