আকস্মিক মৃত্যু হয়েছিল চিকিৎসক স্ত্রীর। ছ’মাস পর সেই স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে চিকিৎসক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, স্ত্রীকে অ্যানাস্থেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ দিয়ে খুন করেছেন ডঃ মহেন্দ্র রেড্ডি। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে বেঙ্গালুরুতে। ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে কর্মরত সার্জন ডা. মহেন্দ্র রেড্ডি ভালো করেই জানতেন মানুষের শরীর কীভাবে কাজ করে। আর সেই জ্ঞান তিনি ব্যবহার করেছেন জীবন বাঁচাতে নয়, বরং একটি জীবন শেষ করতে।
৬ মাস আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কৃতিকা রেড্ডির আকস্মিক মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের দাবি, তার স্বামী মহেন্দ্রই ছিলেন এই ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ মূল এবং একমাত্র হোতা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ‘একজন দক্ষ সার্জনের মতো নিখুঁত পরিকল্পনায়’ নিজের স্ত্রীকে হত্যার ছক কষেছিলেন এবং সেটি তিনি করেছেন প্রাণঘাতী মাত্রায় অ্যানাস্থেশিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে। ওই যুগলের বিয়ে হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৬ মে। পুলিশ জানিয়েছে, মহেন্দ্র তার স্ত্রীর শারীরিক দুর্বলতা ও চিকিৎসাগত ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন। সেই তথ্যকেই তিনি ব্যবহার করেছেন তার হত্যা পরিকল্পনায়। হোয়াইটফিল্ডের ডেপুটি কমিশনার এম. পরশুরাম বলেন,‘মহেন্দ্র খুবই সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি জানতেন স্ত্রী কোন ওষুধে বেশি মাত্রায় স্পর্শকাতর এবং সেটিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মহেন্দ্র তার স্ত্রীকে জানান তিনি নাকি গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভুগছেন, তাই ইনজেকশন দিতে হবে। তিনি বাড়িতে ইন্ট্রাভেনাস (আইভি) ওষুধ দেন।পরদিন তিনি কৃতিকাকে তার বাবা-মায়ের বাড়ি মারাথাহল্লিতে নিয়ে যান, বলেন তার বিশ্রাম দরকার। সেই রাতে আবার ফিরে এসে আরও একটি আইভি ডোজ দেন। ২৩ এপ্রিল, কৃতিকা ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথার কথা জানান। মহেন্দ্র তখন হোয়াটসঅ্যাপে পরামর্শ দেন, ‘আইভি লাইন খুলো না, আমি রাতে এসে আরও এক ডোজ দেব।’ সেই রাতে, প্রায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে, তিনি কৃতিকার ঘরে ঢুকে আরেকটি ইনজেকশন দেন। পরদিন সকাল ২৪ এপ্রিল, কৃতিকাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। আশ্চর্যজনকভাবে, মহেন্দ্র কোন সিপিআর দেননি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি-এর রিপোর্টে কৃতিকার শরীরে অ্যানাস্থেশিয়ার উপাদান শনাক্ত হয়, যা মৃত্যুকে ‘প্রাকৃতিক’ নয়, বরং ‘বিষক্রিয়াজনিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে প্রমাণ করে। এরপর পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর রিপোর্ট (ইউডিআর)-কে হত্যা মামলায় রূপান্তর করে এবং কৃতিকার বাবা কে. মুনি রেড্ডির অভিযোগের ভিত্তিতে মহেন্দ্রকে গ্রেফতার করে। কৃতিকার বাবা মুনি রেড্ডি বলেন,‘আমাদের মেয়ে বিশ্বাস করত তার বিয়ে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই চিকিৎসা জ্ঞান, যা মানুষের জীবন বাঁচানোর কথা, সেটাই তার জীবন কেড়ে নিল।’
