Abu Sayed Killing Case: বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সইদ হত্যা মামলায় অবশেষে রায় ঘোষণা হল। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং প্রাক্তন কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে। বাকি তিন জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আবু সইদ হত্যা মামলার ৩০ জন অভিযুক্তের মধ্যে বর্তমানে ৬ জন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার মধ্যে দুই পুলিশ কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন-বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, প্রাক্তন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। রায় ঘোষণা ঘিরে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন উপাচার্য হাসিবুর রশীদ-সহ এ মামলার ২৪ জন অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অধ্যাপক, আধিকারিক, পুলিশ ও ছাত্রলীগের প্রাক্তন কর্মীরা এই তালিকায় আছেন। তাঁদের মধ্যে রংপুর মহানগর পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার মনিরুজ্জামান এবং প্রাক্তন উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য।
এদিন রায় ঘোষণার সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মহম্মদ মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু-সহ আরও কয়েকজন। পলাতক অভিযুক্তদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া। এই মামলায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। এর পরদিন আবু সইদের বাবা মকবুল হোসেন মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সওয়াল-জবাব শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি। এরপর গত ৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় রায়ের জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সইদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা নিরস্ত্র সইদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। গুলি চালানোর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। এই নির্মম ঘটনাই মোড় ঘুরিয়ে দেয় জুলাই আন্দোলনের এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনেও এই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মিলেছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করা হয়। অবশেষে আবু সইদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হল।