মথুরাপুরের জনসভা থেকে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ মথুরাপুরে মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে। এদিকে তাঁর আরও দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা এসে পশ্চিমবঙ্গবাসীর অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল ‘লুটের রাজনীতি’ করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই আবহে ভোটারদের উদ্দেশ্যে মোদীর বার্তা, ‘সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভোট দিন। বিজেপি প্রার্থীদের জেতান।’
আজ নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘এখানে দুর্নীতি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। সব কাজে টাকা দিতে হয়। চাকরি কে পাবে, সেটাও ঘুষ খেয়ে ওরা ঠিক করে। যদি কাউকে জমি কিনতে হয়, তাতে মস্তান দাদাকে টাকা দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। কাটমানির খেলা আর চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না। মৎস্যজীবীরাও এখানে সমস্যায়। চারদিকে লুট চলছে। তৃণমূল সরকার তাতে মদত দিচ্ছে। এখানকার শিশুদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
এদিকে মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে মোদী বলেন, ‘বিজেপি সরকারই কেন্দ্রে প্রথম মৎস্যপালনের আলাদা মন্ত্রক বানিয়েছে। সমুদ্রে যান যে মৎস্যজীবীরা, তাঁদের সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে আমাদের সরকার। তাঁদের আয় বাড়বে।’ এছাড়া অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এখানকার সমুদ্রকে অসুরক্ষিত করে রেখেছে। অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল। কাদের মদতে তারা ঢুকছে? তৃণমূলের মদতে। ওরা অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে চায় না। যখনই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলি, তখনই ওরা প্রতিবাদ করে। কিন্তু আমরা এখানে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি কোনও নমনীয়তা দেখানো হবে না।’

এর আগে আজ কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ দেগেছিলেন মোদী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অনুপ্রবেশকারীদের এই দেশে বসবাসের জন্য জাল নথি করে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। ভোটব্যাঙ্কের জন্য অনুপ্রবেশকারীদের তৃণমূল আশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।