অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকার অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা গতকাল থেকেই চর্চায়। সেখানে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ অবজার্ভার অজয় পাল শর্মাকে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে তাঁর বাড়িতে গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসতে দেখা গিয়েছিল অজয়কে। আবার তৃণমূল প্রার্থী পালটা বলেছিলেন, ‘অজয় পাল শর্মা সিংঘম হলে আমি পুষ্পা। ঝুঁকেগা নেহি।’ এই সবের মাঝেই আজ ভোট দিয়ে পুলিশ কপর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সাংসদ।
আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনারা জানেন, হাইকোর্টের অর্ডার থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষদের ভয় দেখাতে এক্তিয়ার বিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে। এমনিতেই গায়ের জোরে ৩০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। এতে কোনও লাভ হবে না। প্রথম দফায় বিজেপি কুপোকাত হয়ে গিয়েছে। এই দফায় দফারফা হবে। এক্তিয়ার বিরুদ্ধ কাজ করছে। সিআরপিসি-র কোথাও কোনও প্রভিশন নেই। বিএনএসের প্রভিশন নেই। নির্বাচন কমিশনের কোনও গাইডলাইন নেই। কোনও অবজার্ভারকে অধিকার দেওয়া নেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দেওয়ার। অবজার্ভাররা নির্বাচন কমিশনের চোখ ও কান হিসাবে কাজ করবে এবং রিপোর্ট দেবে এসপি-কে। রিপোর্ট দেবে নির্বাচন কমিশনকে। তারপর নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে কী করা উচিত। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে ধমকানো-চমকাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনও কেস নেই, সেই সব তৃণমূল কর্মীদের শাসাচ্ছে-চমকাচ্ছে। এইসব করে কোনও লাভ হবে না।’
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘সবাই কান খুলে শুনে রাখুন, কোনও ঝামেলা করলে এমন চিকিৎসা করব না…এখানে জাহাঙ্গিরের পরিবারের লোকজন আছে। তাদের বলছি, ওর লোকজন নাকি হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে শুনছি। ওকে বলে দেবেন এসব করলে আমি কিন্তু সব খবর নেব। পরে এমন করব তখন কেঁদেকেটেও লাভ হবে না।’ সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাসকদল তৃণমূল। অভিযোগ ওঠে, তিনি তাঁর এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে আচরণ করছেন।

এদিকে সংবাদমাধ্যমে জাহাঙ্গির বলেন, ‘অজয় পাল শর্মা একজন অবজার্ভার। তাঁর কোনও এক্তিয়ার নেই যে তিনি নিজে গিয়ে কাউকে ধমক দিয়ে আসবেন। তাঁর কিছু বলার থাকলে তিনি এসপিকে বলবেন। বিজেপি এই সব করাচ্ছে। আমরা পুষ্পা রাজ। ঝুকেগা নেহি। মৃত্যু মেনে নেব না। কিন্তু দিল্লির পুলিশের চমকানোতে আমরা ভয় পাই না। ওনার চমকানো কতটা বাড়তে থাকে দেখা যাক। তারপর আমরা দেখছি। আমাদের এলাকার মা-বোনেরা উত্তেজিত হচ্ছে। ওরা যখন এক হয়ে ঝাঁটাপেটা করবে তখন বুঝতে পারবে।’