গত ১০ এপ্রিল যদুবাবুর বাজার ও পদ্মপুকুর এলাকার কাছে অবস্থিত একটি আশ্রমে গিয়ে সেখান থেকে সাধুদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতা তথা কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর বিরুদ্ধে। সেই অসীম বসুকে নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এই আবহে কাউন্সিলরের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে এলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
প্রসঙ্গত, সাধারণত কোনও ভোটের দিনই সকাল সকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের হতে দেখা যায় না। তবে এবার সেই ‘প্রথা’ ভাঙলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আজ সকাল সকাল ভোটদান পরিদর্শন করতে রাস্তায় নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে তিনি যান ফিরহাদ হাকিমের পাড়া চেতলায়। এদিকে ভোট পরিদর্শনে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমকে মমতা জানান, তাঁর রাতে ঘুম হয়নি। এদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, জায়গায় জায়গায় তৃণমূলের পোস্টার খুলে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের কর্মীদের তুলে নেওয়া হচ্ছে।
মমতা বলেন, ‘কোর্টের অর্ডার থাকা সত্ত্বেও সারা বাংলা জুড়ে সিআরপিএফ আর অবজার্ভাররা বলছেন, অর্ডার মানব না। আমাদের সব ছেলেদের তুলে নিচ্ছে।’ এরপর তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, ‘আজ মুখ্যমন্ত্রী নয়, প্রার্থী হিসাবে ঘুরছি। কাল সারারাত যা তাণ্ডব করেছে, আপনারা জানেন না। অভিষেক, আমি জেগে ছিলাম। সারা রাত এই কাজগুলি করেছি। তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুকে বেরতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে গতকাল রাত দেড়টায় হেনস্থা করা হয়েছে। ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’ মমতা বলেন, ‘ওর বউ জানায় বাবাই বাড়িতে নেই, তাও ওরা ঢোকে।’ এদিকে ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী যাওয়ার ঘটনা নিয়ে মমতা বলেন, ‘ববির স্ত্রী ছিল। মাঝরাতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। মহিলারা আতঙ্কিত।’ এদিকে আজ খিদিরপুরের হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করতে চলেছেন মমতার প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে আজ ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের অদূরেই বেশ কয়েকজনকে নিয়ে বসেছিলেন কার্তিক। এই আবহে পুলিশ সেখানে গিয়ে বলে, চারজনের বেশি একসঙ্গে জমায়েত করা যাবে না। সেই সময় সতর্ক করা হয় কার্তিককে। ভবানীপুরে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রের ওপর নজর গোটা রাজ্য তথা দেশের। প্রচারের সময়ও এখানে নানা সময় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল দুই পক্ষের মধ্যে। এই আবহে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পুলিশ তৎপর।