পাকিস্তানি স্ত্রীকে হঠাৎ ডিভোর্সের ঘোষণা ইয়াসিনের! জল্পনা তুঙ্গে

Spread the love

১৯৯০ সালের ২৫ জানুয়ারি। ঘটনাস্থল, শ্রীনগর বাস স্টপ। জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের(JKLF) বন্দুকধারীরা সেদিন নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে ৪ ভারতীয় বায়ুসেনা অফিসারকে। ১৯৮৯ সালের ঘটনা, সেবার তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সইদের মেয়ে রুবিয়া সইদকে অপহরণ করা হয়। ১৯৯০ সাল। সরলা ভাট হত্যাকাণ্ড। সেই বছর ১৮ এপ্রিল অনন্তনাগের ২৭ বছর বয়সি কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের কন্যা সরলা ভাটকে অপহরণ ও গণধর্ষণ করা হয়। উপত্যকার বুকে উদ্ধার হয়েছিল পেশায় নার্স সরলার গুলিবিদ্ধ দেহ। এই সমস্ত মামলায় অভিযুক্ত রয়েছে কাশ্মীরের জেলে বন্দি জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের নেতা ইয়াসিন মালিক। সদ্য ইয়াসিন ঘোষণা করেছেন, তিনি তাঁর পাকিস্তানি স্ত্রী মুশাল হুসেন মালিককে ডিভোর্স দিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, ৩৫ বছর আগের সরলা ভাট খুন, বায়ুসেনা অফিসার রবি খান্না খুনের মামলায় যখন তুঙ্গে কোর্টে সওয়াল জবাব চলছে, ঠিক সেই সময় ইয়াসিনের এই ঘোষণা আসে। ফলত, জল্পনা থেকেই যাচ্ছে।

২০০৫ সালে পাকিস্তান গিয়েছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিক। সেবার প্রথম মুশালের সঙ্গে পরিচয় তাঁর। পরে ২০০৯ সালে বিয়ে। সেই স্ত্রীকে, দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে ডিভোর্স দিচ্ছেন মালিক। ইয়াসিন ইতিমধ্যেই, সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডে দাবি করেছেন যে, তিনি নির্দোষ। এরই পাশাপাশি তিনি আবার কোর্টে এও বলেছেন যে, তাঁকে যেন ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়! ইয়াসিনের বক্তব্য, তিনি তাঁর পাকিস্তানি স্ত্রীকে বিধবা দেখতে চাননা, তাই তিনি তাঁকে ডিভোর্স দিচ্ছেন!ইয়াসিন মালিক, যখন তাঁর স্ত্রীকে ডিভোর্সের ঘোষণা করছেন, তখন নির্মল খান্নার প্রশ্ন, ‘উনি ওঁর স্ত্রীকে বিধবা দেখতে চাননা। আর যে মহিলাদের উনি বিধবা বানিয়েছেন তাঁদের কথা?’ ১৯৯০ সালে যে বায়ুসেনা অফিসারদের JKLF শ্রীনগরে খুন করেছিল, সেখানে ছিলেন স্কোয়াড্রেন লিডার রবি খান্না। নির্মল খান্না, সেই রবি খান্নার স্ত্রী। নির্মল বলছেন, ‘ সে আমার নিরস্ত্র স্বামীকে হত্যা করেছে। তাঁর শরীরে ২৮টি গুলি চালিয়েছে। আর আজ সে ত্রাতার ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে? আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি যেদিন তাকে (ইয়াসিনকে) ফাঁসিতে ঝোলানো হবে।’

 

এদিকে, সরলা ভাট হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ইয়াসিন মালিক বলছেন, ১৯৯০ সালের এপ্রিলে—অর্থাৎ যে সময়ে ভাটকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে,নারওয়ারায় বিএসএফ-এর একটি তল্লাশির সময় একটি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। মালিক জানান, এরপর তিনি দীর্ঘ সময় কোমায় ছিলেন এবং সংবাদমাধ্যম,যার মধ্যে সরকারি দূরদর্শনও অন্তর্ভুক্ত ছিল, তারা দুবার তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচার করেছিল। মালিক আরও ঘোষণা করেন যে তিনি চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় আর কোনও আইনি লড়াই চালাবেন না। তিনি বলেন, তিনি তাঁর ‘পুরো বিষয়টি ঈশ্বরের হাতে’ সঁপে দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, ভাটের খুনের মামলায় পিঠ বাঁচাতে মালিক কি ‘ভিকটিম কার্ড খেলছেন?’ নিজের নিরীহ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কি ইয়াসিন মালিক মরিয়া? বিজেপি মুখপাত্র দানিশ ভাট ‘এক্স’-এ এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘সরলা ভাট মামলায় ইয়াসিন মালিকের কোনো যুক্তি বা প্রতিবাদের অবকাশ নেই।’ কলমনিস্ট আমানা বেগম আনসারি লিখছেন, ‘মালিক এমনভাবে জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগ, অন্যায্য প্রক্রিয়া, ১৯৯৪-পরবর্তী অহিংস রাজনৈতিক ভূমিকা, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ এবং বৃহত্তর কাশ্মীর সংঘাতের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যাতে তাকে একজন অনুশোচনাহীন সন্ত্রাসীর পরিবর্তে বরং এক বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বেশি মনে হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *