পাক-চিনের দুঃস্বপ্ন! গভীর সমুদ্রে শত্রুর উপর নজর রাখবে ‘রোমিও’

Spread the love

শক্তি বাড়ল ভারতীয় নৌবাহিনীর। শত্রুদেশের মোকাবিলা করতে ধাপে ধাপে নিজের সামুদ্রিক ও বিমান শক্তি আরও মজবুত করে তুলছে নৌসেনা। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার একটি বড় সংযোজন হল এমএইচ-৬০আর ‘রোমিও’ বহুমুখী হেলিকপ্টারের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন নৌবাহিনীতে কমিশন করা হল। গোয়ার আইএনএস হানসা নৌঘাঁটিতে আইএনএএস ৩৩৫ (অস্প্রে) স্কোয়াড্রনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠী।

এই কমিশনিং ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ অভিযানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাতা মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিনের তৈরি এমএইচ-৬০আর ‘রোমিও’ চপার কেনার জন্য ২০২০ সালে বরাত দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেই মর্মে নৌসেনার জন্য ২৪টি রোমিও এবং তাতে ব্যবহৃত বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র, নজরদারি সরঞ্জাম কেনার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা। তারমধ্যে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কোচিতে প্রথম স্কোয়াড্রন আইএনএএস ৩৩৪ কমিশন করা হয়েছিল। এই হেলিকপ্টারগুলি নৌবাহিনীর সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ, নজরদারি, ভূমি ও সমুদ্রপৃষ্ঠে আক্রমণ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের চারপাশের সামুদ্রিক পরিবেশ আগের তুলনায় আরও জটিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি, দ্রুতগতির প্রযুক্তি এবং ধূসর অঞ্চলের কার্যক্রম থেকে শুরু করে সমুদ্রে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন পর্যন্ত হুমকির বিস্তৃত পরিসর – এই নতুন বাস্তবতাকে রূপ দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, এই চ্যালেঞ্জিং এবং গতিশীল কৌশলগত প্রেক্ষাপটের মধ্যেই ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত হওয়ার লক্ষ্যে তার সামুদ্রিক যাত্রা শুরু করছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই রোমিওর ক্ষমতা অশেষ। শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ ধ্বংস করার পাশাপাশি সমুদ্রের বুকে তল্লাশি ও উদ্ধারকার্যে অত্যন্ত দক্ষ এই চপার। এটি শুধুই একটি হেলিকপ্টার নয়, দীর্ঘমেয়াদি অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ‘সাসটেইনমেন্ট সাপোর্টের’ অন্যতম অঙ্গীকার। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টারগুলির মধ্যে অন্যতম এমএইচ-৬০আর ‘রোমিও।’ লকহিড মার্টিন নির্মিত এই হেলিকপ্টার মার্কিন নৌবাহিনীরও প্রধান ভরসা। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল, অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার: হেলফায়ার মিসাইল, মার্ক-৫৪ টর্পেডো, রকেট ও মেশিনগান। রয়েছে ডিপিং সোনার, সোনোবয় লঞ্চ সিস্টেম ও মাল্টি-মোড রাডার-যার সাহায্যে গভীর সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা শত্রু সাবমেরিন সহজেই শনাক্ত করা যায়। এছাড়া ইনফ্রারেড কাউন্টারমেজার ও স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা ব্যবস্থা আছে, যা হুমকি টের পেলেই সক্রিয় হয়। ‘রোমিও’ ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট থেকে শুরু করে আইএনএস বিক্রমাদিত্য ও আইএনএস বিক্রান্তের মতো বিমানবাহী রণতরী থেকেও সহজে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *