দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে একাদশীর সকালেই ঘটল রোমহর্ষক কাণ্ড। রাস্তার ধারে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের গলার নলি কাটা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়। মৃতদেহের পাশেই পাওয়া গিয়েছে মদের বোতল, ঠান্ডা পানীয় ও জলের বোতল। ফলে প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, মদের আসরে ডেকে নিয়ে গিয়ে যুবককে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে বারুইপুর পূর্বের বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬০ কলোনি এলাকায় রাস্তায় বেরিয়ে রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। কাঠের ব্রিজের কাছেই পড়ে ছিল যুবকের নিথর দেহ। তাঁর গলার নলি কাটা, চারপাশে ছড়ানো ছিল মদের বোতল, ঠান্ডা পানীয় ও জল। ঝোপের ধারে পড়ে ছিল প্লাস্টিকের গ্লাসও। দৃশ্য দেখে প্রথমে স্থানীয়রা হতভম্ব হয়ে যান, পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বারুইপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত যুবক ওই এলাকার বাসিন্দা নন। তবে তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ফলে যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের অনুমান, বৃহস্পতিবার রাতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই ওই এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। রাস্তার ধারে বসে নিয়মিত মদের আসর, ভাঙা কাচ ছড়িয়ে থাকে সর্বত্র। অভিযোগ, এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। তাই পুলিশের ধারণা, বৃহস্পতিবার রাতেও মদ্যপানের আসরে বসেই অজ্ঞাত ওই যুবককে নিয়ে আসা হয় এবং পরে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম চললেও পুলিশ তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবার প্রকাশ্যে খুনের ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।