স্কোরলাইন ৩-০ হলেও ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সবগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। তবু দীর্ঘদিন পর দলের ছন্দময় ফুটবল এবং দাপুটে জয় দেখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে সেলেসাও সমর্থকদের মুখে। পরিচিত সাম্বা নৃত্যের ছন্দে মাঠ মাতিয়ে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বারবার চাপ সৃষ্টি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও ম্যাথিউস কুনহারা। ম্যাচের ১২ মিনিটে জালের দেখা পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। এরপর ২২ মিনিটেও গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন তিনি। যদিও সেই আক্রমণেও অফসাইডের পতাকা উঠেছিল।
তবে আক্রমণের ধার কমেনি ব্রাজিলের। একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার ম্যাথিউস কুনহা। প্রথমার্ধে দুইবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান তিনি। দুই গোলেই নিখুঁত অ্যাসিস্ট করেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েই অবশ্য ক্ষান্ত হননি তিনি। যোগ করা সময়ে নিজেও গোলের দেখা পান। দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস।
কুনহার জোড়া গোল ও ভিনিসিয়ুসের একক নৈপুণ্যে বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোলের দেখা পায়নি দলটি। ফলে ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সেলেসাওদের।
তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই দুশ্চিন্তার খবরও পেয়েছে ব্রাজিল শিবির। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রাফিনিয়া। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন উদীয়মান তারকা রায়ান। প্রাথমিকভাবে রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর, তা জানা যায়নি। বিশ্বকাপের আগে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের এই চোট তাই ব্রাজিল সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তবু সব মিলিয়ে এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক বার্তাই পেয়েছে ব্রাজিল। কুনহার গোল, ভিনিসিয়ুসের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স এবং দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে সাম্বা শিবিরকে।
