Anti India Protest in Dhaka: শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা শহরে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়ে মিছিল করল ‘আজাদ পার্টির’ ব্যানারে থাকা জামাতিরা। তথাকথিত ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছে এই বাংলাদেশ আজাদ পার্টি। মিছিলকারীরা ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এই মিছিল থেকে। এমনকি প্রত্যক্ষ ভাবে বাংলাদেশি হিন্দুদের বিরুদ্ধেও মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে – ‘দিল্লি যাদের মামাবাড়ি, বাংলা ছাড়ো তাড়াতাড়ি’। সঙ্গে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানও ওঠে সেই মিছিল থেকে।
পরে গুলশান–১ এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দিয়েছে পুলিশ। তখন ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এই আজাদ পার্টির ব্যানারে থাকা জামাতিরা। ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির থেকে শুরু করে অনেক ‘জুলাইপন্থী’ নেতা ভারতের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন সেখানে দাঁড়িয়েই। আবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুত্তলিকাও নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ভারতের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কি বাস্তবতার ভিত্তিতে, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দ্বিচারিতার বহিঃপ্রকাশ?
উল্লেখ্য, ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রীবেদীর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে ভারত বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে বাংলাদেশি জামাতিরা। বাংলাদেশে দায়িত্বগ্রহণ করার দিনে দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ‘আমার তো মনেই হচ্ছে না বাংলাদেশে এসেছি।’ পাশাপাশি দুই দেশের জনসংখ্যা ও প্রতিভার সম্মিলিত শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে যৌথ অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা বলেন। দীনেশ বলেছিলেন, ‘একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে ওইটা আসল শক্তি। ওই শক্তিটা যেন পুরো পৃথিবী দেখে। ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশে যে ট্যালেন্ট আছে তাদের নিয়ে আগামী প্রজন্ম খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি —সবকিছু নিয়ে কাজ করব।’ আর তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের একাংশ অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশকে ‘দখল’ করতে চায় ভারত। ভিত্তিহীন ভাবে একাধিক ইসলামপন্থী সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহল ভারত বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে এই পরিস্থিতিতে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যখনই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট বা জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পায়, তখন একটি অংশ ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জনমতকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করে। অথচ একই সময়ে সেই রাজনৈতিক শক্তিগুলো ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে কোনও আপত্তি জানায় না। এদিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ভারত যখন পুশব্যাক করছে, তখন নিজেদের নাগরিকদের গ্রহণ করতেই অস্বীকার করছে বাংলাদেশ।

এদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ—ভারতের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ আজ অনেক রাজনৈতিক গোষ্ঠী সেই ইতিহাসকে আড়াল করে কেবল ভারতবিরোধী আবেগকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্বিচারিতা লক্ষ করা যায় বাংলাদেশের তরফ থেকে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হল ভারত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও অনেকাংশে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। দুই দেশের মধ্যে রেল, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও উপকৃত হয়েছে। কিন্তু একদিকে ভারতের বাজার ও অবকাঠামোগত সুবিধা গ্রহণ, অন্যদিকে রাজনৈতিক মঞ্চে ভারতবিরোধী প্রচার করে চলেছে বাংলাদেশিরা।