Industrial Policy। ঘুচবে দীর্ঘদিনের ‘বন্ধ্যত্ব!’লগ্নি টানতে রূপরেখা তৈরির উদ্যোগ রাজ্যে

Spread the love

New Industrial Policy: রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার কি তবে দীর্ঘদিনের বন্ধ্যত্ব কেটে ঘুরে দাঁড়াতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্র? রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়ের সাম্প্রতিক এক দাবি অন্তত সেই আশার আলোই দেখাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং গত দুই দশক ধরে শিল্পায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর স্থায়ী সমাধান করতে এক নতুন শিল্পনীতি তৈরি করছে রাজ্য সরকার।প্রস্তাবিত এই নীতিতে মূলত ব্যবসা করার পরিবেশ সহজতর করা, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার বর্তমান সমস্ত বাধা বা ‘বটলনেক’ দূর করতে এবং দেশীয় ও বিদেশি-উভয় ধরনের বিনিয়োগের জন্যই বাংলাকে একটি অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। তাপস রায় বলেন, ‘আমরা একটি নতুন শিল্পনীতি নিয়ে কাজ করছি, যার মধ্যে জমি, শিল্পের জন্য ইনসেনটিভ এবং একটি কার্যকর ‘সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামীকালই আমি এই প্রস্তাবিত নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করব। বাংলার হারিয়ে যাওয়া শিল্প গৌরব পুনরুদ্ধার করতে আমরা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।’ দেশের বিভিন্ন রাজ্য যে বর্তমানে আর্থিক প্যাকেজ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগ টানার এক তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে, সে কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে রাজ্যে নতুন শিল্প আনতে এবং নতুন বিনিয়োগের গতি বাড়াতে বাংলাকেও সমমানের আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক ইনসেনটিভ প্রদান করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা নতুন শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, পাশাপাশি রাজ্যে বর্তমানে যেসব শিল্প রয়েছে তাদেরও এখানে আরও ব্যবসা সম্প্রসারণ করার জন্য আহ্বান করছি।’ বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্য থেকে ৬,৬৮৮টি শিল্প চলে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করে, সেগুলোকে পুনরায় বাংলায় ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন তিনি। তাপস রায় বলেন, ‘বাংলার শিল্পায়নের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। শিল্পায়নের পথে যে সমস্ত বাধা রয়েছে, তা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চিহ্নিত করে দূর করা হবে।’ বাংলায় সরকার পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক মনোভাব বা সেন্টমেন্ট তৈরি হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক দিনেই ৪৫ থেকে ৪৭ জন শিল্পপতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

এর পাশাপাশি, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত আটটি ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’-এ করা সমস্ত ঘোষণার বর্তমান খতিয়ান বা স্টেটাস বিভাগ-ভিত্তিক জমা দেওয়ার জন্য বাণিজ্য ও শিল্প দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। তাপস রায় আরও বলেন, ‘আমি কতগুলো মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, মোট কত টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছিল এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের বর্তমান পরিস্থিতি কী-অর্থাৎ কতগুলো ঘোষণা বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং কোন কোন প্রকল্প আদৌ শুরুই হতে পারেনি, তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছি।’ টাটা গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে এবং বাংলায় আরও বিনিয়োগের জন্য তাঁদের রাজি করাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মুম্বই যাবেন কিনা-জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে যেতে পারেন এবং তিনি যদি আমাকে সঙ্গে যেতে বলেন, আমি অবশ্যই যাব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *