আসন্ন নির্বাচনের আগে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাকে অশান্ত করতে দেশের বাইরে থেকে কালো টাকা ঢুকিয়ে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে নতুন কৌশল চালু হয়েছে। এমনই তথ্য পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, এবার সরাসরি নগদ নয়, বরং এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের মাধ্যমে হাওলায় অর্থ পাঠানোর চক্রান্ত জোরদার হয়েছে। এই তথ্য পেয়েই সক্রিয় হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী এখানে প্রায় ২৯,৯৩২টি এনজিও নিবন্ধিত আছে। মানবকল্যাণের আড়ালে কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে অপব্যবহারের ইতিহাসও রয়েছে।গত বছর পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি এনজিওর কালো তালিকায় নাম উঠে আসা এটাই প্রমাণ করে। গোয়েন্দা তৎপরতায় মিলেছে এমন তথ্য, যেখানে বিভিন্ন রাজ্য থেকে কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব আসে এনজিও গুলির কাছে। বর্ধমানের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার জানান, একবার অজানা কয়েকজন এসে বলেছিলেন আমেদাবাদের একটা সংস্থা ৪১ কোটি টাকা পাঠাবে। অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করে ৪০ কোটি তাদেরকেই দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে মাত্র এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। এমনকি সংস্থার কর্ণধারকে মোটা অঙ্কের কমিশন দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরকম অনেক এনজিওকেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকে এ ধরনের প্রস্তাব সন্দেহজনক ভেবে ফিরিয়ে দিয়েছেন বা গ্রহণ করেননি। কারণ আইনি বাধ্যবাধকতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতির কারণে বৃহৎ অংকের অর্থ নেওয়া সম্ভব নয়।
প্রশাসন সূত্রে বলা হচ্ছে, নগদ পাচার করলে নাকায় ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকায় অপারেটররা এখন নতুন পন্থা খুঁজছে। সংস্থার নাম ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে ধরা না পড়ার মতো ছক গড়া হচ্ছে। আর সেই কারণে পুলিশ-প্রশাসন উদ্বিগ্ন।

জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠায় ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত রাজ্য থেকে টাকার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। আর বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলের নেতারা কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা করছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে , পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধ। ফলে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে এনজিও-র অস্বাভাবিক লেনদেন, বড় অঙ্কের টাকা আদানপ্রদানের ওপর।