পদত্যাগ করলেন এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসন। সূত্রের খবর, গত সপ্তাহের বোর্ড মিটিংয়েই তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও পদে যোগ দিয়েছিলেন ক্যাম্পবেল উইলসন। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই তিনি কেন পদত্যাগ করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২০২২ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্যাম্পবেল উইলসন। এভিয়েশন সেক্টরে ৩০ বছরেরও বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নানা ধরনের এয়ারলাইন্সের ব্যবসা সামলেছেন। এয়ার ইন্ডিয়ায় যোগ দেওয়ার আগে উইলসন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে (এসআইএ) প্রায় ২৬ বছর কাজ করেছেন। তিনি স্কুট-এর সিইও ছিলেন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কম দামের বিভাগ সেটি। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের (এসআইএ) ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি হিসেবে ১৯৯৬ সালে নিউজিল্যান্ডে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি কানাডা, হংকং এবং জাপানে ওই সংস্থারই নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপরে ২০১১ সালে স্কুট-এর প্রতিষ্ঠাতা সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন। তারপরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একাধিক দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই পদেই ছিলেন।
এরপর ক্যাম্পবেল উইলসন এসআইএ-তে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট-সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যেখানে তিনি প্রাইসিং, ডিস্ট্রিবিউশন, ই-কমার্স, মার্চেন্ডাইজিং, ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং, গ্লোবাল সেলস এবং এয়ারলাইন্সের বিদেশি অফিসগুলোর তত্ত্বাবধান করতেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে, তিনি স্কুট-এর সিইও হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া বর্তমানে তার সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিমান সংস্থাটির ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং পরিচালনগত সমস্যার কারণে ক্যাম্পবেলের পদত্যাগ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪-২৫ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসান কমার পরিবর্তে বেড়েছে। কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য ঋণ চাপেরও সম্মুখীন হচ্ছে। উপরন্তু, ২০২৫ সালের জুনে আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর এয়ারলাইনটি কঠোর নিয়ন্ত্রক নজরদারির অধীনে রয়েছে। তবে ক্যাম্পবেল উইলসনের পদত্যাগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।
