PM Modi to address nation: আজ, শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে কী বিষয়ে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রী কী বলতে পারেন, নতুন কোনও ঘোষণা করতে পারেন কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল বিরোধীরা আটকে দেওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুলবেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই চড়তে শুরু করেছে উত্তেজনার পারদ। প্রধানমন্ত্রীর এই জাতির উদ্দেশে ভাষণের ঘোষণা এমন একটি সময়ে করা হল যখন দেশের রাজনীতি মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাল। বিল লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করার প্রস্তাব ছিল। ভোটাভুটিতে ২৯৮ জন সাংসদ বিলের পক্ষে ভোট দিলেও ২৩০ জন এর বিরোধিতা করেন। ভোটাভুটিতে যোগ দিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তাই এই ফলাফল নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, শনিবার দিল্লিতে ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি’-এর বৈঠকে এই প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিলটি পাশ না হওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিরোধীরা এই বিলের বিরোধিতা করে বড় ভুল করেছে এবং ভবিষ্যতে এর জন্য তাদের আক্ষেপ করতে হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই বিলের বিরোধিতার রাজনৈতিক মূল্য বিরোধীদের দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে বিরোধীদের এই অবস্থানকে তুলে ধরবে এবং তাদের ‘নারীবিরোধী মনোভাব’ তুলে ধরবে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলগুলি যতই নানা যুক্তি দেখাক না কেন, এই বিলের বিরোধিতা আসলে তাদের সংকীর্ণ মানসিকতারই প্রতিফলন। অন্যদিকে সূত্রের খবর, ‘ইন্ডিয়া’ জোটভুক্ত বিরোধী দলগুলো দেশজুড়ে মহিলা সংরক্ষণের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা তুলে ধরবে। শনিবার বৈঠকে বসেন ইন্ডিয়া জোটের সংসদীয় দলের নেতারা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ সংসদীয় দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম সিদ্ধান্ত হল, প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লেখা হবে। সেই চিঠিতে মূলত ২০২৩ এর মতো মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানানো হবে। একইসঙ্গে দাবি তোলা হবে, বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩ আসনের উপর ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হোক।

প্রধানমন্ত্রীকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল বিরোধীরা আটকে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কাল থেকে পতন শুরু হয়েছে। তাই বাবুকে আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে হচ্ছে। বাপরে, কত বড় জাতির নেতা!’ তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে এক করে কালকে দিল্লিতে হারিয়েছি। ইলেকশন চালাকালীনও এমপিদের পাঠিয়েছি। আরও ৮ জন যেতে পারেনি। আরও অন্য পার্টিরও ২০ জন আছে। সব মেলালে কত হয়? বিজেপি ধপাস। বিজেপি এ পাশ ওপাশ ধপাস। মাইনোরিটি গভর্নমেন্ট। দু’জনের সাপোর্ট নিয়ে চালাচ্ছে। যে দিন উইথড্র করে নেবে… মানে টুক টুক করে আগুন জ্বলছে।’
এখানেই শেষ নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লিকে টার্গেট করব। কালকে মোদীকে পরাস্ত করা হয়েছে। আগামী দিন বাংলা জিতে মোদীকে আবার পরাস্ত করা হবে। দিল্লি থেকে এই সরকারের বিনাশ করা হবে গণতন্ত্রের মাধ্যমে। কালকে মহিলা বিল নয়, ওর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিল ডিলিমিটেশন। মানে কী জানেন? আপনাদের কেন্দ্রগুলি ভাগ ভাগ করে বঙ্গভঙ্গ থেকে দেশভঙ্গ করার পরিকল্পনা। ওটাকে আমরা উল্টে দিয়েছি। এবং মোদীবাবুর পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। আজকে শুনছি, উনি দেশের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওঁর ভাষণ শুনে মানুষের রেশন মিলবে না। ওঁর ভাষণ মানে মিথ্যার ফুলঝুরি।’