বিরোধীদের হাজারো আপত্তি, বিক্ষোভ ও ওয়াকআউটের মাঝেও লোকসভা ও রাজ্যসভা- সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়ে গেল ‘দ্য বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ), ভিবি-জি রাম জি বিল ২০২৫।’ আর এই বিলকে ঘিরেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি এই বিলকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ এবং ‘গ্রামবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলে বিল পেশ করেন শিবরাজ চৌহান। মনরেগার নাম পরিবর্তন করে ‘জিরামজি’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই বিলে। প্রস্তাবিত বিলে ১০০ দিনের কাজের পরিমাণ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ছে। তাছাড়া আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হত। এবার থেকে কেন্দ্র ঠিক করবে কোন রাজ্যে কত বরাদ্দ করা হবে। ফলে সাধারণ শ্রমিকরা ১০০ দিনের কাজ পাবেনই, তেমন কোনও নিশ্চয়তা থাকছে না। আগে এই বিলে কাজের নিশ্চয়তা ছিল। কেন্দ্রের এই নতুন বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই সংসদে প্রতিবাদে সুর চড়ায় বিরোধীরা। কিন্তু শেষমেশ সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়ে যায় এই নতুন বিল। এরপরেই এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘একদিনেই ২০ বছরের এমজিএনআরইজিএ-কে ধ্বংস করে দিয়েছে মোদী সরকার। ভিবি-জি রাম জি এমজিএনআরইজিএ-র কোন ‘সংস্কার নয়। এটি আসলে অধিকার-ভিত্তিক, চাহিদা-চালিত গ্যারান্টিকে ধ্বংস করে, একটি রেশনিং-ভিত্তিক প্রকল্প চালু করার পদ্ধতি, যা দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি এর নকশাগতভাবেই রাজ্য-বিরোধী এবং গ্রাম-বিরোধী।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এমজিএনআরইজিএ গ্রামীণ শ্রমিকদের দর কষাকষির ক্ষমতা দিয়েছিল। প্রকৃত বিকল্প থাকায় অভিবাসন কমেছিল, মজুরি বেড়েছিল, কাজের অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। একইসঙ্গে গ্রামীণ পরিকাঠামো নির্মিত ও পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। এই সরকার ঠিক সেই ক্ষমতাই ভেঙে দিতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের নামে কাজের পরিমাণ সীমিত করে এবং কাজ অস্বীকার করার আরও নতুন উপায় তৈরি করে, ভিবি-জি রাম জি আসলে গ্রামীণ দরিদ্রদের হাতে থাকা একমাত্র হাতিয়ারটিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কোভিড মহামারীর সময় আমরা দেখেছি এমজিএনআরইজিএ-র গুরুত্ব কতটা ছিল। যখন মানুষের উপার্জন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন এটি কোটি কোটি মানুষকে ক্ষুধা ও ঋণ থেকে রক্ষা করেছিল।’ কংগ্রেস সাংসদের অভিযোগ, ‘এই আইনটি যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়াই সংসদে জোর করে পাশ করানো হয়েছে। বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর বিরোধীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যে আইনটি গ্রামীণ সামাজিক চুক্তিকে নতুন করে সাজাবে এবং কোটি কোটি শ্রমিককে প্রভাবিত করবে, সেই আইনটি কোনও গুরুতর কমিটি পর্যালোচনা, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং গণশুনানি ছাড়াই এভাবে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’
