একসময় ব্যাট হাতে সৌরভ-সচিনের দাদাগিরি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করত ক্রিকেটপ্রেমীরা। এখন অবশ্য দুজনেই অবসরে। তবে বন্ধুত্বের কথা মাঝেসাঝে উঠে আসে দুই তারকার মুখে। পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েন তাঁরা।এই যেমন সৌরভ একবার জানিয়েছিলেন যে, কীভাবে একবার সচিন তাঁকে মুরগির মাংসের নাম করে খাইয়েছিলেন কুমিরের মাংস। সৌরভকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘২০০০ সালে আমরা কেনিয়া গিয়েছিলাম। তখন সবে ভারতের ক্যাপ্টেন হয়েছি। জোর করে আমায় একটা কারনিভোর রেস্তোরাঁতে নিয়ে যায়। মেনু কার্ডে দেখি কুমিরের মাংস, এই মাংস ওই মাংস। আমাকে জিজ্ঞেস করছে তুমি কী খাবে?’
‘আমার বাড়িতে কোনওদিন গোরুর মাংস বা এসব খাওয়ার অনুমতি ছিল না। এখনও নেই। মা যদি জানতে পারে, আমাকে স্নান করে বাড়ি ঢুকতে হবে। তো আমি মনে মনে ভাবলাম, কুমিরের মাংস খেয়ে এখানে অসুস্থ হলে ডাক্তারও পাব না! বললাম, আমি চিকেন খাব। সচিনও বলল, হ্যাঁ আমরা সবাই চিকেন খাব। এবার খেয়ে বেরনোর পর আমাকে বলছে, কেমন খেলে? আমি বললাম, হ্যাঁ ভালোই তো ছিল। তখন বলছে ওটা চিকেন নয়, কুমিরের মাংস ছিল।’
বিশ্ব ক্রিকেটে ওপেনিং জুটি হিসাবে সবচেয়ে বেশি রান ছিল একসময় সচিন আর সৌরভের। ২২ গজে তাঁদের যুগলবন্দী দেখতে মুখিয়ে থাকত গোটা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা। যদিও দুজনেই যখন খেলছেন তখন তাঁদের নিয়ে কতই না খবর ছড়িয়েছিল চারদিকে। ক্রিকেট জীবন চলাকালীন, আন্তর্জাতিক কেরিয়ার থেকে অবসর নেওয়ার পরেও অবশ্য সেইসব জল্পনাই থেকে গিয়েছে, প্রকাশ্যে একে-অপরের প্রতি সবসময় ভালোবাসা বর্ষণ করেছেন তাঁরা।
এমনকী ২০১৪ সালে সৌরভের বেহালার বাড়িতেও এসেছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার। তাঁদের একসঙ্গে ডিনার করার একটি ছবি মাঝেসাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হয় ভাইরাল। ২০২০ সালে করোনা লকডাউন চলাকালীন পুরনো সেই ছবি শেয়ার করে সচিন লিখেছিলেন, ‘এটা একটা পুরনো ছবি। একটা মজার সন্ধ্যা কাটিয়েছিলাম দাদির বাড়িতে। আমি খাবারের মজা নিচ্ছিলাম। আজও ভুলতে পারি না তাঁদের সেই আপন করে নেওয়ার স্মৃতি। আশা করি তোমার মা ভাল আছেন। মাকে আমার শুভেচ্ছা জানাই।’আবার ২০২৩ সালে সচিন নিজের জন্মদিনে একটি ‘Ask Sachin’ সেশন করেছিলেন। সেখানে এক অনুরাগী, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে সৌরভের ভক্ত বলে পরিচয় দেন, তিনি মাস্টার ব্লাস্টারের কাছে অনুরোধ করেন, দাদাকে নিয়ে একটা শব্দ বলতে। সপ্রতিভ জবাব দেন সচিন। লেখেন, ‘দাদি’। সঙ্গে ইমোজিও পোস্ট করেন। আর তাতে সৌরভকে ট্যাগও করেন।
