পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আবহে রিটার্নিং অফিসার পদে জেলাশাসকদের বদলে মহকুমা শাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। এর আগে বিগত নির্বাচনগুলিতে রাজ্যের অনুরোধ মেনে জেলাশাসকদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে আসছিল কমিশন। বে এবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রিটার্নিং অফিসারদের ড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, অন্যান্য রাজ্যে মহকুমা শাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকদেরই রিটার্নিং অফিসার করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দু’দিনের বঙ্গ সফরে এসে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগেও কড়াকড়ি দেখাল কমিশন। এদিকে রাজ্যে ভোট ঘোষণার আগে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। আর গতকাল প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মমতা অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক ঢোকানো হচ্ছে রাজ্যে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সেই ভার্চুয়াল বৈঠকে সরকারি কর্মীদের ‘অভয়’ দেন মমতা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘ফুল বেঞ্চের বৈঠকে কী হয়েছে সবটাই আমি শুনেছি। ভয় পাবেন না আপনারা আপনাদের কাজ করে যান। ওরা ক্রমাগত ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন আসছে, এখন ওরা এসব বেশি করে করবে। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। কেউ কিছু করতে পারবে না।’

এর আগে রাজ্যে এসে সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, সরকারি কর্মীরা যেন কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করেন। সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনও ভয় বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়া আইন কার্যকর করুন’। এরই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এসপি, জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের সুরক্ষার সব ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটার বা ভোটকর্মীকে ভয় দেখানো যাবে না। কমিশন এই বিষয়টি কোনও ভাবেই মেনে নেবে না।’