কদিন আগেই প্লেব্যাক থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন অরিজিৎ সিং। একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার-সহ একাধিক অ্যাওয়ার্ড তাঁর ঝুলিতে। হিন্দি এবং বাংলা ছাড়াও বেশ কয়েকটি ভারতীয় ভাষায় গান রেকর্ড করেছেন। সিনেমার জন্য গান হোক বা কোনো অনুষ্ঠান, মোটা পারিশ্রমিক পান অরিজিৎ। যদিও সেটা তাঁর লাইফস্টাইল দেখে বোঝা বেশ মুশকিল।
একটি ভিডিয়ো আপাতত ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়াতে। যেখানে দেখা গেল জিয়াগঞ্জের রাস্তায় নিজের স্কুটার চেপে বেরিয়ে পড়েছেন। আর সেখানকার মানুষের আদরের এই পাত্র এক বয়ষ্ক মহিলাকে পথ নির্দেশও বুঝিয়ে দিচ্ছেন বেশ সুন্দর করে।
আর গায়কের এই সারল্যই জিতে নিল মানুষের মন। একজন কমেন্টে লেখেন, ‘মাটির মানুষ’। আরেকটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘দেবতুল্য মানুষ’। অন্যজন লেখেন, ‘অরিজিৎ সিং রেসপেক্ট বটন’।
২০০৫ সালে সোনি এন্টারটেনমেন্টের ফেম গুরুকুল-এর প্রতিযোগী ছিলেন অরিজিৎ সিং। তবে সেখানে জিততে পারেননি, মাঝপথেই বেরিয়ে যেতে হয়। এরপর বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা সঙ্গীত পরিচালক, যেমন: মিঠুন শর্মা, বিশাল-শেখর এবং প্রীতমের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন অরিজিৎ। বলিউডে তাঁর গাওয়া প্রথম গান ছিল মিঠুনের সঙ্গীত পরিচালনায় মার্ডার ২ সিনেমায় ‘ফির মহব্বত’ গানটি। যা বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা পায়। তবে কপাল ফেরায় ২০১৩ সালে মুকেশ ভাট প্রযোজিত ছবি ‘আশিকি ২’ সিনেমা। সেখানে বেশ কয়েকটি গান গেয়েছিলেন জিয়াগঞ্জের ভূমি-পুত্র। বিশেষ করে ‘তুম হি হো’ গানটি।
অরিজিতের বেড়ে ওঠা কিন্তু জিয়াগঞ্জেই। ১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এই ছোট্ট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের সময় তাঁর পৈতৃক পরিবার লাহোর থেকে উঠে এসেছিল এখানে। পিতা কক্কর সিং এবং মাতা অদিতি সিং। করোনায় ২০২০ সালে মাকে হারিয়েছেন গায়ক।

এদিক সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন বিটিএস-এর জাংকুক। পোস্টে তিনি অরিজিতের প্রশংসা করে লিখেছেন, তিনি শুধু একজন অসাধারণ শিল্পীই নন, বরং অত্যন্ত বিনয়ী ও মানবিক একজন মানুষ। জাংকুক আরও লেখেন যে, মানুষ হিসেবে অরিজিৎ তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।শেয়ার করা ছবিগুলোতে দুই তারকাকে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেছে—কখনও খাবারের টেবিলে, কখনও গিটার হাতে, আবার কখনও মিউজিক রুমে আলোচনায় মগ্ন। আর এগুলো দেখেই নেটপাড়ার ধারাণা ফের কোনো নতুন চমক আসছে।