স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন স্বামীর! মৃতদেহ লোপাট করতে…

Spread the love

আবারও ভয়াবহ ঘটনা যোগী রাজ্যে! বোরকা না পরার জন্য স্ত্রী এবং দুই নিষ্পাপ কন্যাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাঁদের খুন করে বাড়ির পূর্বদিকে খনন করা সেফটি ট্যাঙ্কে পুঁতে দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে।

বছরভর একাধিক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। বছর শেষেও আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনায় শিরোনামে উঠল উত্তরপ্রদেশ। এবার ঘটনাটি ঘটেছে, শামলির কান্ধলা থানার অন্তর্গত গড়ি দৌলত গ্রামে। পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৯ ডিসেম্বর থেকে ফারুখের স্ত্রী তাহিরা (৩৫) ও দুই মেয়ে শারীন, আফরিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে পাড়া-প্রতিবেশী তাঁদের খোঁজ শুরু করেন। জিজ্ঞাসা করায় অভিযুক্ত ফারুক বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে এসেছেন। সেখানেও তাঁদের হদিশ না মেলায় পড়শিরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই গ্রামবাসীদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রথমেই সন্দেহর তীর মহিলার স্বামী ফারুকের উপর যায়। এরপর বিষয়টির গুরুতরভাবে বিবেচনা করে শামলির পুলিশ।

এরপরেই সুপারিনটেনডেন্টের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ফারুকের গ্রামে পৌঁছন। তদন্তে তাঁদের কাছে বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে। জেরার মুখে ফারুক স্বীকার করেন যে, তিনিই তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছেন। এরপর তিনটি মৃতদেহ বাড়ির পূর্বদিকের সেফটি ট্যাঙ্কে পুঁতে দিয়েছেন। সম্ভবত, বোরকা না পড়ার কারণে স্ত্রীকে অভিযুক্ত করেই তিনি এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। তাঁর দুই নিষ্পাপ কন্যার বয়স ছিল যথাক্রমে ১৪ এবং ৬ বছর। ইতিমধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী ফারুককে হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি) এনপি সিং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটির তদন্ত করছেন। ইতিমধ্যে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এহেন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল এবং কার্তুজ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনাটি পারিবারিক কলহের সঙ্গে সম্পর্কিত। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং এই ট্রিপল খুনের তদন্ত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *