হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

Spread the love

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি খারগসহ ইরানের অন্যান্য দ্বীপগুলোতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়ায়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিও অবরোধের হুমকি দিয়েছে তেহরান।প্রতিবেদনে বলা হয়, এরইমধ্যে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এর ফলেবিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ১৯৭০-এর দশকের পর সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ পথটি বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এখন বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধ করলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী আরও বাড়তে পারে।

আইআরজিসি’র এক ঊর্ধ্বতন সেনাকমান্ডার ফার্স নিউজকে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের দ্বীপপুঞ্চ বা ইরানের ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা নেয়, অথবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে তৎপরতা বৃদ্ধি করে তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন ফ্রন্ট খুলবে আইআরজিসি।

বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণও করে।

জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যিও এই প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়েই পরিবহন করা হয়।

আইআরজিসির কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শত্রুদের জন্য হঠাৎ করে নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলে দেব, যাতে তাদের এই পদক্ষেপ কোনো লাভ তো হবেই না, বরং তাদের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।’

বাব আল-মান্দেবের অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হলেও এই প্রণালিতে অবরোধ করার সক্ষমতা আছে ইরানের। কারণ ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে ইরানের সমর্থন ও মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এরইমধ্যে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে বলে আইআরজিসির কর্মকর্তা জানান। এক্ষেত্রে হুতি নেতারা ইরানকে পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *