বর্তমান সময়ে এটিএম কার্ড ব্যবহার করেন না এমন মানুষ বাকি নেই। কিন্তু আপনি কী জানেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে বদলে যাচ্ছে এটিএম ব্যবহারের নিয়ম। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে গ্রাহকদের নগদ তোলা, লেনদেনের সীমা এবং ইউপিআই-ভিত্তিক ক্যাশ পরিষেবায়। এবার আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন কী বদল হচ্ছে? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।
কী কী পরিবর্তন হচ্ছে?
দেশের প্রধান ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে অন্যতম এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এখন থেকে ইউপিআই ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা তুললেও তা মাসিক ফ্রি ট্রানজ্যাকশন কোটা থেকে কাটা হবে। আগে এই পরিষেবাটি আলাদা হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু এখন থেকে প্রতি মাসে অনুমোদিত মোট ফ্রি ট্রানজ্যাকশনে এটিএম লেনদেনের সংখ্যার হিসাবের মধ্যেই এগুলোকে ধরা হবে। ব্যাঙ্ক আরও জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক বিনামূল্যে লেনদেনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করবেন, তাদের প্রতিবার টাকা তোলার জন্য ২৩ টাকা করে চার্জ (ট্যাক্স ছাড়া) দিতে হবে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের, বর্তমানে বিনামূল্যে এটিএম উত্তোলনের সীমা স্থানভেদে বা অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। অধিকাংশ অ্যাকাউন্টধারীই এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নিজস্ব এটিএম থেকে প্রতি মাসে ৫ বার বিনামূল্যে লেনদেনের সুযোগ পান। অন্যদিকে, অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মেট্রো শহরগুলোতে গ্রাহকরা প্রতি মাসে ৩ বার এবং মেট্রো-বহির্ভূত এলাকাগুলোতে ৫ বার বিনামূল্যে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কিছু ডেবিট কার্ডের দৈনিক নগদ তোলার লিমিট কমিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে প্রতিদিন গ্রাহকরা এটিএম কার্ডে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা তুলতে পারবেন। যেখানে আগে অনেক কার্ডে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তোলা যেত। এটি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও লেনদেন পদ্ধতির মানকরণে করা হয়েছে। এছাড়াও, জিও পেমেন্টস ব্যাঙ্ক ঘোষণা করেছে যে, তাদের একটি নতুন পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন একটি ইউপিআই কিউআর কোড স্ক্যান করে এবং কোনও ইউপিআই অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেনটি অনুমোদন করে এটিএম থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। কোম্পানিটি জানিয়েছে, এই পরিষেবাটি তাদের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি টাচপয়েন্টগুলোর মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এটি ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ‘কার্ডলেস’ পরিষেবার দিকে বড় পদক্ষেপ।
