তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকার বাংলাদেশে সবেমাত্র ১ মাস পার করেছে। এদিকে, গতকালই গভীর রাতে বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনাকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে তারেক রহমানের সরকারের পুলিশ। ঘটনাচক্রে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায় ১ এগারোর মুখ্য নাম এই মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। অভিযোগ, তিনি সেই সময় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে অকথ্য অত্যাচার করেছিলেন। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার আমলে তারেক রহমানের মা তথা বিএনপির প্রাক্তন নেত্রী ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহুদিন বিচারাধীন ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এবার বাংলাদেশের আইন কিছু মাস আগেই সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামি লিগের প্রধান শেখ হাসিনাকে বড়সড় মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। সেই শেখ হাসিনাকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন তারেক রহমানের মন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গত ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র জনতা অভ্যুত্থানের পরই বাংলাদেশ ছেড়ে রাতারাতি ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর ঢাকার মসনদে বসে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করার আর্জি জানিয়ে ইউনুস সরকার বহুবার দিল্লিকে চিঠি দেয় বলে দাবি করে ঢাকা। এরপর বাংলাদেশে বর্তমানে এসেছে নির্বাচিত তারেক রহমানের সরকার। মঙ্গলবার তাঁর সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টির প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে ঢাকা।
শামা বলেন, তারেক রহমানের সরকার, শেখ হাসিনাকে দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে দিল্লিকে চিঠি না দিলেও,বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে তাঁদের এই বিষয়ে কথা হয়েছে।

বাংলাদেশে ইদের ছুটির পরই তারেক সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারে আসার পর এক মাস হয়েছে। সেই এক মাসে ভারতের হাই কমিশনারে সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, ওই মিটিংয়ে ওই কথা বলা হয়েছে। গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলা আছে, কোনটার সাজা হয়েছে, আরও যারা আছে। তাদের ব্যাপারেও আমরা কথা বলেছি।’ হাসিনার বিষয়ে দিল্লিতে কোনও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই, শামা বলেন,’আমরা তো কথাই বলেছি। এটাতো অলরেডি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।’