আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে নতুন অর্থবর্ষ (২০২৬-২৭)। প্রতিবারের মতো এবারও আয়কর সংক্রান্ত কয়েকটি নিয়মে পরিবর্তন আসতে চলেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাকুরিজীবীদের পকেট এবং ট্যাক্স ফাইলিং প্রক্রিয়ার উপর। বিশেষ করে ফর্ম ১৬ এবং রিফান্ড সংক্রান্ত নতুন আপডেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
কেন এবার ফর্ম ১৬ নাও পেতে পারেন?
সাধারণত চাকুরিজীবীরা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ফর্ম ১৬ সংগ্রহ করেন। এটি মূলত একটি সার্টিফিকেট, যা প্রমাণ করে যে আপনার বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স (টিডিএস) কেটে নেওয়া হয়েছে এবং তা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি আপনার বার্ষিক আয় আয়করের সীমার নিচে থাকে এবং আপনার নিয়োগকর্তা কোনও টিডিএস না কাটেন, তবে তিনি আপনাকে ফর্ম ১৬ দিতে বাধ্য নন।
বর্তমানে অনেকেই নতুন আয়কর কাঠামো বেছে নিচ্ছেন, যেখানে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হয় না। ফলে যাঁরা এই স্কিমের আওতায় পড়ছেন এবং যাঁদের ট্যাক্স কাটা হচ্ছে না, তাঁদের জন্য ফর্ম ১৬ ইস্যু করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে।বেতন কাঠামো ও ট্যাক্স রিফান্ডে বড় পরিবর্তন
আয়কর দফতর করদাতাদের সুবিধার্থে আইটিআর দাখিলের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার চেষ্টা করছে। এবার থেকে কয়েকটি ক্ষেত্রে করদাতাদের আর পুরনো নথি নিয়ে ছোটাছুটি করতে হবে না।
১) প্রি-ফিলড ফর্ম: এখন থেকে আইটিআর পোর্টালে আপনার বেতন, ব্যাঙ্ক সুদ এবং ডিভিডেন্ডের তথ্য আগে থেকেই ভরা থাকবে। আপনাকে শুধু সেগুলি মিলিয়ে নিতে হবে।

২) দ্রুত রিফান্ড: গত কয়েক বছরে রিফান্ডের সময়সীমা অনেকটা কমিয়ে আনা হয়েছে। এবার লক্ষ্য রাখা হচ্ছে, যাতে সঠিক তথ্য দিলে কয়েক দিনের মধ্যেই রিফান্ডের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।
নতুন বনাম পুরনো আয়কর কাঠামো: কোনটি আপনার জন্য?
১ এপ্রিল থেকে ডিফল্ট হিসেবে নতুন কর কাঠামোই কার্যকর থাকবে। আপনি যদি বিশেষভাবে পুরনো কাঠামো বেছে না নেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনি নতুন কাঠামোর আওতায় চলে আসবেন। মনে রাখবেন, নতুন কর কাঠামোয় কোনও ছাড় (যেমন- ৮০সি, ৮০ডি) পাওয়া যায় না। কিন্তু ট্যাক্স স্ল্যাব অনেক বেশি সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, যারা হোম লোন বা এলআইসিতে বড় বিনিয়োগ করেন, তাদের জন্য পুরোনো কাঠামো এখনো লাভজনক হতে পারে।