Bangladeshi Nahid Islam on India। ভারতের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল

Spread the love

ভারতের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের। মহম্মদ ইউনুসের সরকারের প্রাক্তন এই উপদেষ্টার বক্তব্য, ‘ভারতের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল।’ উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ‘ভারত বিরোধী’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিবিদ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় ঢাকায়। সেই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত সেই দেশের ‘বিপ্লবী নেতারা’। কোনও প্রমাণ ছাড়াই ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে তারা। এই আবহে ‘গলা শুকিয়েও’ সুর চড়ালেন নাহিদ।

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে নাহিদ বলেন, ‘ভারত যদি মনে করে তারা আগের মতোই বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ, নির্বাচনে কারসাজি করবে, সেই ভাবনা ভুল। ভারতের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের সাবধান থাকতে হবে।’ এদিকে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধী হাসিনাকে ভারত জায়গা দিয়েছে। ভারতকে বলতে চাই, হাসিনাসহ বাংলাদেশে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক খুনিকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আবার বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে ফিলিস্তিন বানাতে চায়। ওসমান হাদির ওপর যারা আক্রমণ করেছে, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের ভারত আশ্রয় দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এটা চলতে থাকলে আমরাও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেব।’ এরপর এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘ভারত যদি মনে করে হাসিনা ও ওসমান হাদির ঘাতকদের আশ্রয় দিয়ে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, তা কোনও দিন হবে না।’

উল্লেখ্য, যে ওসমান হাদিকে গুলি করায় এই সব ভারত বিদ্বেষ প্রকাশ পাচ্ছে, সেই ওসমান নিজে চরম ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই হামলার ঘটনায় ভারতের ‘র’-এর দিকে আঙুল তুলেছেন হাদির বোন মাহফুজা। এদিকে বাংলাদেশের তরুণ নেতাদের অভিযোগ, ওসমান হাদিকে গুলি করা কায়সার এবং তাঁর সহযোগী ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। এই ভিত্তিহীন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিরোধী সুর চড়ছে বাংলাদেশের ছাত্র নেতাদের গলায়।

প্রসঙ্গত, হাসিনার বিদায়ের পর একাধিক জনসভায় এই ওসমান হাদি স্লোগান তুলেছিলেন – ‘দিল্লি না ঢাকা…’। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ওসমান ভারতের বিকৃত একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। একটি আলোচনা সভার সেই পোস্টে ভারতের থেকে পঞ্জাব, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন দেখানো হয়েছিল। সেগুলিকে পাকিস্তানের এলাকা হিসেবে দেখানো হয় মানচিত্রে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের অধিকাংশ এলাকা, গোটা ঝাড়খণ্ড, উত্তরপূর্ব ভারত এবং মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাটিকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। আর এহেন ওসমান গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার কথা শোনা গেল এনসিপি নেতাদের মুখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *