২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সিবিএসই বোর্ডের আওতাভূক্ত সমস্ত স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা বা আর থ্রি মডেলের পঠনপাঠন চালুর নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে সিবিএসই। ৭ দিনের মধ্যে স্কুলগুলিকে এই নিয়ম বিধি লাগু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সিবিএসই একথা জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপকে ‘জরুরি ও বাধ্যতামূলক’ আখ্যা দিয়ে বোর্ড বলেছে, পাঠ্যবই এখনও পাওয়া না গেলেও সব স্কুলকে অবিলম্বে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। সিবিএসইর তরফে তার নোটিসে জানানো হয়েছে, ‘জানা গেছে যে, অনেক স্কুল ইতিমধ্যেই আর৩ (R3) বাস্তবায়ন শুরু করেছে… বাকি সকল স্কুলকে এই সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে তা পালন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’ ফলত তৃতীয় ভাষার পঠন পাঠনে আপাতত কোনও বই না পাওয়া গেলেও, তা পড়তে হবে ষষ্ঠ শ্রেণির সিবিএসই স্কুলের পড়ুয়াদের। সরকারি পাঠ্যপুস্তক প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত, স্কুলগুলোকে স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ উপকরণ ব্যবহার করে অবিলম্বে তৃতীয় ভাষা শিক্ষাদান শুরু করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে লেখা রয়েছে, ‘আর৩-এর পাঠ্যবইগুলো শীঘ্রই উপলব্ধ করা হবে। তবে, বিদ্যালয়গুলোকে স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ বই বা উপকরণ ব্যবহার করে অবিলম্বে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আর৩-এর পাঠদান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’ বোর্ড এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, স্কুলগুলোকে অবশ্যই তাদের নির্বাচিত তৃতীয় ভাষা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে এবং OASIS পোর্টালে তা জানিয়ে দিতে হবে। তারা আরও জানিয়েছে যে, এই কার্যক্রমটি আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তৃতীয় ভাষার পঠনপাঠন নিয়ে সিবিএসই খুবই গুরুত্বপূর্ণভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘কোনও স্কুল কর্তৃক ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু করা শুধুমাত্র সেই R3 ভাষাগুলোই সেই স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণিতে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পাওয়া যাবে।’এই নির্দেশিকাটি ২০২৩ সালের জাতীয় স্কুল শিক্ষা পাঠ্যক্রম কাঠামোর সুপারিশগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে, যা আর১, আর২, আর৩ মডেলের অধীনে বহুভাষিক শিক্ষার ওপর জোর দেয়। প্রসঙ্গত, আর ১ হল, স্থানীয় বা মাতৃভাষা, আর ২ হল যেকোনও ভারতীয় ভাষা বা ইংরেজি, আর ৩ হল বাকি যেকোনও ভারতীয় ভাষা। সিবিএসই-এর মতে, এর লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ভাষাগত দক্ষতা, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং জাতীয় সংহতি’ বৃদ্ধি করা।