Google’s AI। ভারতীয় পুরুষ পাশে থাকলে বিপদের সতর্কতা? গুগল এআই-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ

Spread the love

Google’s AI: সার্চ রেজাল্টের শীর্ষে থাকা গুগলের ‘এআই ওভারভিউ’ (AI Overviews) ফিচারটি নিয়ে ব্যবহারকারী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। ইন্টারনেটের নানা উৎস থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত উত্তর দেওয়াই এই সুবিধার লক্ষ্য হলেও, এর আগেও ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর পরামর্শ দেওয়ার কারণে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েছে ‘এআই ওভারভিউ।’

সম্প্রতি জার্মান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ডয়চে ভেলে’ (DW)-র একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, বিভিন্ন দেশের পুরুষদের সঙ্গে একা থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গুগলের এআই ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী উত্তর দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনও এক ব্যবহারকারী যখন একজন ভারতীয়, কলম্বিয়ান কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকান পুরুষের সঙ্গে একা থাকার কথা লিখেছেন, তখন এআই ওভারভিউ তাঁকে ‘অনিরাপদ’ মনে হচ্ছে কিনা তা জানতে চেয়েছে এবং জরুরি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। অথচ একই পরিস্থিতিতে জার্মান বা ব্রিটিশ পুরুষের কথা উল্লেখ করা হলে এআই জানায় যে স্বাভাবিক ও নিরাপদ।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটেও (Reddit) এক ব্যবহারকারী একই ধরনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে দেখিয়েছেন, কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি বিপদের সতর্কতা জারি করছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং গুগলের এই প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট জাতি ও বর্ণভিত্তিক কুসংস্কার বা স্টিরিওটাইপ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট থেকে পাওয়া যে বিপুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তার মধ্যেই সমাজের প্রচলিত পক্ষপাত ও ভ্রান্ত ধারণা লুকিয়ে থাকে; ফলে এআই-এর উত্তরেও সেই সামাজিক কুসংস্কারেরই প্রতিফলন ঘটে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গুগল তাদের ত্রুটি স্বীকার করেছে। প্রযুক্তি জায়ান্টটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের উত্তর তাদের নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এই পক্ষপাতমূলক সমস্যা দূর করতে দ্রুত সিস্টেম সংস্কারের কাজ চলছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের মহিলাদের সঙ্গে একা থাকার বিষয়ে একই ধরনের প্রশ্ন করা হলে এআই অনেক বেশি হালকা মেজাজে উত্তর দেয় এবং আলাপচারিতা শুরুর নানা পরামর্শ দেয়। সমালোচকদের মতে, এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা মানসিকতাকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে। সার্চ রেজাল্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে জায়গা পাওয়া এই প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে তাই নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *