হড়পা বানে কার্যত বিধ্বস্ত নেপাল। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬২। একইসঙ্গে নিখোঁজ বা আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আর সেই তালিকাতেই রয়েছেন প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের একমাত্র পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। বুধবার সকাল থেকে তাঁর সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বামী শুভ্রাংশু রায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে গোটা পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ অগস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। সেখানে পৌঁছনোর পর একাধিকবার স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতেও শুভ্রাংশুর সঙ্গে স্ত্রীর শেষবার কথা হয়। তখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই নেপালের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে।
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের খবর পাওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন শুভ্রাংশু। বারবার ফোন এবং অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। বুধবার সকাল থেকে এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনও তথ্য নেই। ফলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। একমাত্র প্রার্থনা, তিনি যেন নিরাপদে কোথাও আটকে থাকেন এবং দ্রুত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
নেপালের রাসুয়া জেলায় আচমকা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। চিন সীমান্তবর্তী এই এলাকায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। জলের তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিপর্যয়ের জেরে পর্যটকদের একটি বড় অংশও সমস্যায় পড়েছেন।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব নেপালের গণ্ডি পেরিয়ে তিব্বতেও পড়েছে। চিনের সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বতের গাইরং প্রদেশ-সহ একাধিক এলাকাও হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও বহু মানুষের হতাহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে।

তবে ঠিক কী কারণে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের বক্তব্য, রাসুয়া জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে—এমন সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে তিব্বতের দিক থেকে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল নেমে এসে নদীর জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাই জোরালো হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি হিমবাহের জলাধার ভেঙে গিয়ে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা জিএলওএফ তৈরি হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, নেপাল বিপর্যয়ে এখনও বহু পর্যটকের কোনও সন্ধান মিলছে না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। কলকাতার ৩২ জন পর্যটক আটকে পড়ার খবরে পশ্চিমবঙ্গেও উদ্বেগ বেড়েছে। একাধিক পরিবার প্রশাসনের কাছে তাঁদের প্রিয়জনদের দ্রুত সন্ধান এবং নিরাপদে দেশে ফেরানোর আবেদন জানিয়েছে।