সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জোর দিয়ে বলেছেন যে অপারেশন সিঁদুর ১.০ থামেনি। তিনি বলেছেন, এই সামরিক অভিযানে যদিও গুলিবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, তবুও লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্ভাব্য অপারেশন সিন্দুর ২.০-এর জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীপাবলি সফরের সময় সীমান্তবর্তী জেলা পিথোরগড়ে সেনাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় জেনারেল দ্বিবেদী এই সব কথা বলেন। এদিকে যুদ্ধের বাইরেও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘সেনাবাহিনী সর্বদা জাতি গঠনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে জাতি গঠনে নেতৃত্ব দিতে হবে। আমাদের জাতি গঠনের প্রথম স্তম্ভ হয়ে উঠতে হবে এবং জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।’
সেনাপ্রধান সাম্প্রতিক সংকটের সময় বাহিনীর কার্যকর প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন। উত্তরাখণ্ডের ধরলি এবং থারালিতে দুর্যোগ ত্রাণ অভিযানের পাশাপাশি অমরনাথে উদ্ধার অভিযানে সেনার কাজের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জওয়ানদের শারীরিক ভাবে সবল থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেক সৈনিককে একটি নির্দিষ্ট মান অর্জন করতে হবে। আমরা সকলের জন্য বিকল্পগুলি খুলে রেখেছি – তারা জিমে যেতে চায়, খেলাধুলা করতে চায়, অথবা অ্যাডভেঞ্চার কার্যকলাপ করতে চায়… এর আগে, পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য শারীরিক পরীক্ষা আলাদা ছিল। তবে একটি যুদ্ধে লড়াই করার সময়, শারীরিক পরীক্ষা আলাদা কেন হবে? অতএব, বর্তমানে উভয়ের জন্য পরীক্ষাগুলি অভিন্ন করা হয়েছে।’

এদিকে জেনারেল দ্বিবেদী সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আসন্ন কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণাও করেন। তিনি সম্মিলিত নর্দার্ন কমান্ড এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে রুদ্র ব্রিগেড গঠনের কথা বলেন। একটি বিশেষ ভৈরব ব্যাটালিয়নও তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। এই ব্যাটালিয়নের জন্য নির্বাচিত সৈন্যরা বিশেষ প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং নির্দিষ্ট অপারেশনাল লক্ষ্যবস্তু পাবে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনী প্রধান পুনর্ব্যক্ত করেন যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।