গত সিজনে সারেগামাপা বাংলার মঞ্চে দেখা মিলেছিল রায়গঞ্জের মেয়ে বনশ্রীর। তাঁর গান দর্শকদের মন জিতেছিল। বিচারকরাও তাঁর অনেক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছিলেন, তবে ফাইনালে জায়গা হয়নি বনশ্রীর।এবার আঞ্চলিক টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় মঞ্চে রায়গঞ্জের মেয়ে। ইন্ডিয়ান আইডলের চলতি সিজনে হাজির হয়েছেন বনশ্রী। অডিশন রাউন্ডেই তিন বিচারক- শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি এবং বাদশার মন জিতলেন বনশ্রী।
এদিন ঐতিহ্যবাহী রাজবংশী পোশাক পাটানি পরে., দোতারা হাতে মঞ্চে দেখা মিলল বনশ্রীর। তাঁর সুরের মূর্ছনায় মন্ত্রমুগ্ধ সকলে। গত সিজনে যেমন শুভজিৎ বাংলা লোকগান আর বলিউড গানের ফিউসন তুলে ধরে তাক লাগিয়েছিল, সেই পথেই হাঁটলেন বনশ্রী। এদিন ‘ডাকাতিয়া বাঁশি’র সঙ্গে হিন্দি গান ‘দিল কা ভ্রমর’ গান পেশ করলেন বনশ্রী।
এদিন এসডি বর্মণেরই দুই জনপ্রিয় গান পেশ করেন বনশ্রী। তাঁর গান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া দু-রকম প্রতিক্রিয়া চোখে পড়েছে। বনশ্রী ভক্তরা মুগ্ধ, তবে অনেকের দাবি ‘বড্ড নাকি সুরে গেয়েছে’।
বনশ্রীর মা পুতুল চন্দ বিশ্বাস ও বাবা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস — দুজনেই শিক্ষক। মায়ের হাত ধরেই গানের প্রথম তালিম, তারপর একের পর এক ছোটো বড় মঞ্চে গান গেয়ে আজ ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে বনশ্রী।

এদিন শ্রেয়া ঘোষাল বনশ্রীর প্রশংসায় বলেন, ‘তুমি শুধু গান করোনি, তুমি একটা সংস্কৃতিকে তুলে ধরছো!’ যে মাটিতে তাঁর জন্ম, সেই মাটির গানকে আজ জাতীয়মঞ্চে তুলে ধরতেই বনশ্রীর এই স্বপ্নউড়ান।বাদশার সঙ্গে বড়লোকের বিটি লো গানেও পারফর্ম করেন বনশ্রী। সারেগামাপা-র মঞ্চে বনশ্রীর অঙ্কভীতি নিয়ে কম চর্চা হয়নি। ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চেও কি তেমনটা ঘটবে? সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।
বইয়ের অঙ্কের সমাধান করতে গিয়ে হোঁচট খেলেও জীবনের অঙ্কের সহজ সমাধান নিজের সুরে খুঁজে পেয়েছেন এই রাজবংশী কন্যে।