Indian Merchant Navy Detained by USA। বিয়ের আগে USA-র হাতে আটক ভারতীয় মার্চেন্ট নেভি অফিসার

Spread the love

বিয়ে হওয়ার কথা পরের মাসে। তার আগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ান জাহাজ থেকে ভারতীয় এক তরুণকে আটক করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জানা গিয়েছে, আটক হওয়া সেই মার্চেন্ট নেভি অফিসারের নাম ঋক্ষিত চৌহান। তিনি হিমাচলপ্রদেশের কাংরা জেলার বাসিন্দা। এক রাশিয়ান তেলের ট্যাঙ্কারে তিনি নিযুক্ত ছিলেন। ২৬ বছর বয়সি ঋক্ষিত সম্প্রতি রুশ সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে তাঁকে ভেনেজুয়েলা পাঠানো হয়েছিল। সেই ট্যাঙ্কারে ঋক্ষিত ছাড়াও আরও ২ ভারতীয় ছিলেন। তাঁরাও আটক হয়েছে মার্কিন বাহিনীর হাতে। এখন ঋক্ষিতকে দেশে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে কাতর আর্তি জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

জানা গিয়েছে, ঋক্ষিত ‘মেরিনেরা’ নাম জাহাজে করে রাশিয়া থেকে ভেনেজুয়েলা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে আটক হয় তাঁদের জাহাজটি। এর আগে এই জাহাজের নাম ছিল বেলা ১। মার্কিন বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে জাহাজের নাম বদল করা হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে এই জাহাজটিকে তাড়া করতে শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। পরে উত্তর আটলান্টিকে গিয়ে রাশিয়ান জাহাজটি ধরে ফেলে মার্কিন বাহিনী। এই আবহে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঋক্ষিতের সঙ্গে পরিবারের শেষবারের মতো কথা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রাশিয়ার ট্যাঙ্কারটি আটক করেছিল আমেরিকা। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আনতে গিয়েছিল ট্যাঙ্কারটি। তবে ভেনেজুয়েলার জলসীমান্তে সেটিকে থামায় আমেরিকা। সেখানেই ১০ দিন অপেক্ষা করে ট্যাঙ্কারটি ফিরতি পথ ধরে। এই জাহাজে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন ভারতীয়, ২০ জন ইউক্রেনিয়ান, ৬ জন জর্জিয়ান এবং ২ জন রাশিয়ান। এই ২ রাশিয়ানকে আমেরিকা ছেড়ে দিয়েছে গত ১১ জানুয়ারি। তবে বাকি ২৬ জনকে এখনও আটক করে রাখা হয়েছে।

এদিকে ঋক্ষিতের বিয়ে হওয়ার কথা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি। ঋক্ষিতের মা রীতাদেবী বলেন, ‘আমরা ৭ জানুয়ারি ঋক্ষিতের সঙ্গে শেষবার কথা বলি। এখন আমি প্রার্থনা করছি যাতে বিয়ের নির্ধারিত দিনের আগে ছেলে আমার দেশে ফিরে আসতে পারে। আমি প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি যাতে আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেন। আমার ছেলের সঙ্গে গোয়া এবং কেরলেরও ছেলেরা আটক সেখানে। তাদেরও যেন নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়।’

এদিকে ঋক্ষিতের বাবা রঞ্জিত বলেন, ‘শেষবার যখন কথা হয়েছিল, তখন ছেলে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে আগামী কয়েকদিন হয়ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। সে জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জেরে তাদের সংস্থা জাহাজটিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে বলেছিল। পরে ১০ জানুয়ারি আমরা জানতে পারি যে আমাদের ছেলে যে জাহাজে ছিল, তা আটক করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *