চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সফরের দিনে ভারতের শাকসগাম উপত্যকাকে ফের নিজেদের বলে দাবি বেজিংয়ের

Spread the love

ভারতের আপত্তির সত্ত্বেও ফের একবার ১২ জানুয়ারি শাকসগাম উপত্যকার ওপর নিজেদের দাবির পুনরাবৃত্তি করেছে চিন। উল্লেখ্য, শাকসগামে চিন নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে। তা নিয়ে ভারত আপত্তি জানিয়েছিল। এই নিয়ে আবার চিন ১২ জানুয়ারি বলল, এই অঞ্চলে তাদের অবকাঠামো প্রকল্পগুলি ‘একেবারে যুক্তিসঙ্গত’। এদিকে শাকসগাম নিয়ে চিনের এই মন্তব্য এমন এক দিনে এল, যেদিন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিরা দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে বৈঠক করে আসেন। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির দলে ছিলেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত এবং চিন সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীও।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি শাকসগাম উপত্যকায় চিনের অবকাঠামো প্রকল্পগুলির সমালোচনা করে ভারত বলেছিল, এই উপত্যকা ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত এবং তার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে। তবে ভারতের সেই আপত্তি চিনের কানে গেল না। উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান অবৈধভাবে দখলকৃত ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শাকসগাম উপত্যকার ৫১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চিনের কাছে হস্তান্তর করে।

গত ৯ জানুয়ারি বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, ‘শাকসগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড। ১৯৬৩ সালে স্বাক্ষরিত তথাকথিত চিন-পাকিস্তান ‘সীমান্ত চুক্তি’কে আমরা কখনও স্বীকৃতি দিইনি। আমরা ধারাবাহিকভাবে বজায় রেখেছি যে এই চুক্তিটি অবৈধ। আমরা তথাকথিত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরকে (সিপিইসি) স্বীকৃতি দিই না, কারণ এটি ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গেছে। অবৈধভাবে এবং জোরপূর্বক পাকিস্তান সেই এলাকা দখল করে রেখেছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান ও চিন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি বহুবার পরিষ্কার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল শি জিনপিংয়ের স্বপ্নের ‘বেল্ট অ্যন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প। এর অধীনে চিন-পাক ইকোনমিক করিডোর রয়েছে। চিন থেকে গিলগিট-বালতিস্তান, পাক অধিকৃত কাশ্মীর হয়ে এই অর্থনৈতিক করিডর চলে গিয়েছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত গাদাওয়ার বন্দর পর্যন্ত। অপরদিকে করিডরের একদিক চলে গিয়েছে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত। তবে এই প্রকল্পে ভারতের সার্বভৌমত্বের তোয়াক্কা না করেই কাজ করে গিয়েছে চিন। এই আবহে ভারত প্রথম থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে এসেছিল। ২০১৭ সালে যখন প্রথমবার বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখনই ভারত এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *