পাকিস্তান সুপার লিগকে (পিএসএল) ‘টাটা’ জানিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর) সই করলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। জিম্বাবোয়ের দীর্ঘকায় ফাস্ট বোলার ব্লেসিং মুজারাবানিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করল কেকেআর ম্যানেজমেন্ট। কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা এই পেসারকে দলে নিয়ে নিজেদের বোলিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) তিলোত্তমায় পা রাখছেন এই ডান-হাতি পেসার। যিনি সদ্যসমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়েছেন। আর উইকেটের সংখ্যার নিরিখে ধরলে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হন।
কে এই ব্লেসিং মুজারাবানি?
৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই পেসার বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বিপজ্জনক বোলার হিসেবে পরিচিত। জিম্বাবোয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুজারাবানির পারফরম্যান্স এককথায় অনবদ্য। ৮০টিরও বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ঝুলিতে পুরেছেন ৯০টিরও বেশি উইকেট। গড় মাত্র ২১-এর কাছাকাছি, যা আধুনিক ক্রিকেটে অভাবনীয়। তাঁর সেরা বোলিং স্পেল হল মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট।
নাইট শিবিরে কেন মুজারাবানি অপরিহার্য?
মুজারাবানির প্রধান অস্ত্র হলো তাঁর অতিরিক্ত উচ্চতা। ইডেন গার্ডেন্সের পিচে যেখানে পেস ও বাউন্স নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে, সেখানে তাঁর মতো বোলার বিপক্ষ ব্যাটারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তোলা হোক বা ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার—মুজারাবানি সব বিভাগেই সিদ্ধহস্ত। গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে কেকেআরের বোলিং ইউনিটে একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

আগামী ১৭ মার্চ কলকাতায় আগমন
কেকেআর সূত্রে খবর, ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) মুজারাবানি কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন। সেখান থেকে সরাসরি যোগ দেবেন দলের সঙ্গে। ১৮ তারিখ থেকেই তিনি ইডেনে অনুশীলনে নেমে পড়তে পারেন। নাইট ভক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উন্মাদনা তুঙ্গে, কারণ গত কয়েক মরসুমে একজন খাঁটি ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ পেসারের অভাব বোধ করছিল দল। মুজারাবানি সেই শূন্যস্থান পূরণ করবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।
কেকেআরের পেস আক্রমণ ও রণকৌশল
মুজারাবানির আগমনে কেকেআর-এর হাতে এখন একাধিক বিকল্প। একদিকে যেমন ভারতীয় পেসাররা রয়েছেন, অন্যদিকে মুজারাবানির মতো বিদেশি পেসার দলের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনবেন। কেকেআর কোচিং স্টাফের মতে, মুজারাবানি শুধু উইকেট সংগ্রাহক নন, তিনি অত্যন্ত কিপটে বোলারও বটে। পাওয়ার প্লে-তে তিনি যেভাবে রান আটকে চাপ তৈরি করেন, তা অন্য প্রান্তের বোলারদের উইকেট পেতে সাহায্য করে।