গায়ক লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনায় রুজু হয়েছে তৃণমূল নেতা মেহবুব মল্লিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জুড়ে দেওয়া হয়েছে খুনের চেষ্টার ধারা। আর সেই বিষয়ে এবার মুখ খুললেন তৃণমূলের বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, এই মামলায় খুনের চেষ্টার ধারা যোগ করা ‘বাড়াবাড়ি’। এই নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘খুনের চেষ্টার মামলা। এটা বাড়াবাড়ি এবং অযৌক্তিক। প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বাড়াবাড়ি ঘিরেই হয়। বন্ধুরা কী বলেন?’
গত ২০ ডিসেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর এলাকায় স্টেজ শো করতে গিয়েছিলেন লগ্নজিতা চক্রবর্তী। তিনি ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির ‘জাগো মা’ গানটি গাইলে হঠাৎ মঞ্চে উঠে যান মেহবুব মল্লিক। সেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে খুনের চেষ্টার ধারা। অভিযোগ, একের পর এক গান গাইতে গাইতে, দেবী চৌধুরানী সিনেমার ‘জাগো মা’ গানটি গাইতে শুরু করেন লগ্নজিতা। তখন এই গানটি গাওয়ায় আপত্তি জানানো হয়। ধর্মনিরপেক্ষ গান গাইতে হবে, এমনটাই দাবি তোলেন মেহবুব। মেহেবুব মল্লিক স্টেজে উঠে গায়িকাকে মারতে যান লগ্নজিতাকে।
গায়িকার অভিযোগ, সন্ধ্যে ৭টা থেকে ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ভালো ভাবেই অনুষ্ঠান চলছিল। ‘জাগো মা’ গানটি গাওয়ার সময় এই র্ঘটনাটি ঘটে। দর্শক আসন থেকে মেহেবুব তাঁকে আক্রমণ করতে যান, সেই সময় স্টেজে যারা ছিলেন তারা তড়িঘড়ি ব্যাপারটিকে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। লগ্নজিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুরু করা হয়েছে তদন্ত। এমনকি স্থানীয় থানার ওসি শাহজাহান হকের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। অভিযোগ, তিনি গোটা ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই আবহে শাহেনশাহ হকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
